রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের পাটগ্রাম শাখায় কর্মরত প্রিন্সিপাল অফিসার আশরাফ আলী (৫৮) ও সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) এনামুল হক ভূঁইয়াসহ চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। অন্য দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন এওজি -২ (ক্যাশ) মো. নুরুজ্জামান (৪৮) ও নিরাপত্তা কর্মী মো. তহির উদ্দিন (৩৬)।
গতকাল সোমবার (২২ জুন) মো. নুরুজ্জামান ও মো. তহির উদ্দিন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। এর আগে গত ১৪ জুন (রবিবার) প্রথম করোনা পজেটিভ হন সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) এনামুল হক ভূইয়া। এছাড়া ২১ জুন (রবিবার) করোনা পজেটিভ শনাক্ত হন প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ আশরাফ আলী।
সোনালী ব্যাংক পাটগ্রাম শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৪ জুন একই দিনে বুড়িমারীর আহারতুল্লাহ প্রধান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিন আক্তার শ্যামলী নামে এক নারী করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তিনি গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে এসেছিলেন। আমরা ধারণা করছি ওই শিক্ষকের মাধ্যমে এনামুল হক ভূইয়া সংক্রমিত হতে পারেন। এরপর এনামুল হক ভূইয়ার মাধ্যমে শাখার অন্যান্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে আসা রিপোর্টে ওই দুজনের শরীরে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. কালী প্রসাদ রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১২ মে ডা. কেএম তানজির আলম (২৮) ও ২১ জুন ডা. রাহমত উন ফেরদৌস (২৮) করোনা পজেটিভ শনাক্ত হন। এরমধ্যে ডা. কেএম তানজির-উল আলম সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করেছেন। ডা. রাহমত-উন ফেরদৌসকে হোম আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক পাটগ্রাম শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমিসহ ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আটজনের রিপোর্টে এখন পর্যন্ত চারজনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত ও অপর চারজনের রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাদবাকি ছয়জনের রিপোর্ট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো বলেন, আমি একাই সরকারি কিছু লেনদেন প্রদান করছি। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের বুড়িমারী ও হাতীবান্ধা শাখা হতে প্রয়োজনী নগদ লেনদেন অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারছেন গ্রাহকরা। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতদের পরবর্তী স্বাস্থ্য রিপোর্ট পাওয়ার পর তারা কাজে যোগদান করবেন। অপরদিকে বাদবাকি ৬ কর্মকর্তার কভিড-১৯ রিপোর্ট পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে যথারীতি ব্যাংকিং কার্যক্রম শিগগিরই চালু করা হবে।
জানতে চাইলে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা অরুপ পাল বলেন, ২২ জুন পর্যন্ত পাটগ্রামের বিভিন্ন এলাকার ৩১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৯ জনের রিপোর্টে ১৪ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। বাদবাকিদের রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে। করোনা সংক্রমিত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জন সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। অপর ৯ রোগীকে তাদের নিজবাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।