চোখে খেলা দেখতে না পারলেও তাদের ফুটবলপ্রেম বিন্দুমাত্র কম নয়। ধারাভাষ্য, বন্ধুদের বর্ণনা আর গ্যালারির উল্লাসের ওপর ভর করে কল্পনার রঙে তারা গড়ে তোলেন নিজেদের এক অনন্য ফুটবল জগৎ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে গত ১১ জুন শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এ মহাযজ্ঞের পর্দা নামবে ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে। এ বৈশ্বিক উন্মাদনা ছুঁয়ে গেছে রাবির দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদেরও। অন্য শিক্ষার্থীরা যখন পর্দায় চোখ রেখে রাত জাগেন, তখন এ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের কাছে ফুটবল মানে শব্দ, উত্তেজনা ও আবেগের এক দারুণ মিলনমেলা।
ইতিহাস বিভাগের আর্জেন্টিনা সমর্থক শিক্ষার্থী নাইম হোসেন ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের ভক্ত। তিনি বলেন, ‘আমি ইংরেজি ধারাভাষ্য শুনে খেলা উপভোগ করি। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠের উত্তেজনা শুনে মনের চোখে কল্পনা করি কীভাবে ফ্রিকিক নেয়া হচ্ছে বা পাস দেয়া হচ্ছে।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ব্রাজিল সমর্থক ওসামা হোসেন নাহিদ জানান, পুরোপুরি দৃষ্টিহীন না হলেও চশমা ব্যবহার করে খেলা দেখার জন্য ম্যাচ শুরুর এক-দেড় ঘণ্টা আগেই তিনি বড় পর্দার সামনে গিয়ে বসেন। তার মতে, ফুটবল শুধু দেখার বিষয় নয়, এটি অনুভব করার বিষয়।
একই বিভাগের আর্জেন্টিনা সমর্থক হাবিবুর রহমান রেফারি, বলের শব্দ ও গ্যালারির গর্জন শুনেই মনের ক্যানভাসে স্টেডিয়ামের ছবি আঁকেন। সম্প্রতি মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলিফ জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের খেলা দেখে স্বপ্ন বোনেন—বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।
রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা সুলতানা বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বন্ধুদের বর্ণনা ও ধারাভাষ্য শুনে কল্পনার মাধ্যমে খেলা উপভোগ করেন। বর্তমানে প্রযুক্তির আরো উন্নয়ন হলে এবং অডিও ডিসক্রিপশন সুবিধাসহ সরাসরি সম্প্রচার চালু হলে মাঠের দৃশ্য সম্পর্কে তারা আরো স্পষ্ট ধারণা পাবেন।’ দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রাবির এ শিক্ষার্থীদের ফুটবলপ্রেম প্রমাণ করে, ফুটবলের আবেদন সর্বজনীন ও সীমানাহীন।