নোয়াখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের ৯০ শতাংশই বিকল

নোয়াখালীর নয়টি উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের ৯০ শতাংশই বিকল। কয়েকটি সচল থাকলেও হচ্ছে না ব্যবহার। বাজারদরের তুলনায় এসব বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে চড়া মূল্যে।

নোয়াখালীর নয়টি উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের ৯০ শতাংশই বিকল। কয়েকটি সচল থাকলেও হচ্ছে না ব্যবহার। বাজারদরের তুলনায় এসব বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে চড়া মূল্যে। এতে গচ্চা গিয়েছে সরকারের কোটি টাকা। দায় নিতে রাজি নয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। অবশ্য খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক।

সম্প্রতি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, শতভাগ ডিজিটাল হাজিরার আওতায় নোয়াখালী সদর উপজেলা। ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতেই স্থাপন করা হয়েছে বায়োমেট্রিক মেশিন। সরকারি নির্দেশনায় ২০১৯ সালে স্থাপন করা হয়েছে এসব মেশিন। কিন্তু করোনার কারণে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ব্যবহার করা হয়নি মেশিনগুলো। ফলে ৯০ ভাগ মেশিনই এখন বিকল। ১০ ভাগ মেশিন ভালো থাকলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না।

১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলায়। যার মধ্যে ১৯১টিতেই স্থাপন করা হয়েছে বায়োমেট্রিক মেশিন। দেখা যায়, বর্তমানে সব মেশিনই বিকল। সুবর্ণচর উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন। যার প্রায় সব বিকল। শুধু নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ সুবর্ণচর নয়একই অবস্থা কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সেনবাগ, চাটখিল সোনাইমুড়ি উপজেলাসহ প্রায় সব উপজেলায়।

নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আরা জানান, ২০১৯ সালের দিকে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্দেশ আসে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা স্থাপনের জন্য। বিদ্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে জমা দিতে বলা হয়। কিছুদিন পর একজন ব্যক্তি এসে তার বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা স্থাপন করে। নির্দেশ না থাকায় ওই হাজিরা ব্যবহার হয়নি একদিনও।

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে হাজার ২৫৩টি। যার মধ্যে প্রায় নয় শতাধিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব ডিজিটাল হাজিরা স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হলেও তা ব্যবহারের নির্দেশ এখনো পর্যন্ত আসেনি। ফলে ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনগুলোর বেশির ভাগ বিকল হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরই নিজ নিজ উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা তড়িঘড়ি করে এসব মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দেয় বিদ্যালয়গুলোকে। বার্ষিক থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে মেশিনগুলো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কেনার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পছন্দের ব্যক্তি থেকেই কিনতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয়গুলোয় স্থাপন করা এসব মেশিনের মূল্য সর্বোচ্চ - হাজার হলেও নেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ থেকে ২১ হাজার টাকা। বিভিন্ন উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন দামে কেনা হয়েছে মেশিনগুলো।

ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে যান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এর দায়ই কোনোভাবেই তাদের নয়। সরকারি নির্দেশ থাকায় তা উপজেলা প্রশাসন কিনেছে। এর সঙ্গে তার দপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া বর্তমানে সব বিদ্যালয়কে হাজিরা মেশিন কেনা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, কেন এসব ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার হচ্ছে না, স্থাপিত মেশিনগুলো মান অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও