পাবনার সুজানগর উপজেলায় গাজনার বিলে একসময় সারা বছরই বিলে পানি থাকত। এখন বিলের নাব্যতা কমে যাওয়ায় বছরের ছয় মাস পানি থাকে, বাকি ছয় মাস শুকনা থাকে। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানা মিলে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে বিলটি। ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয় বিলে। দেশীয় মাছেরও বিচরণ ক্ষেত্র এটি। বোনা আমন ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে সম্প্রতি খুলে দেয়া হয়েছে তালিমনগর স্লুইস গেট।
কৃষি বিভাগ বলছে, গাজনার বিলে পানি না থাকায় বোনা আমন ধানের গাছ বাড়ছিল না। আষাঢ় মাসে মিঠা পানির মাছ ডিম ছাড়ে। বিলে নতুন পানি না থাকায় মাছও প্রবেশ করতে পারছিল না। ধান ও মাছের বৃদ্ধির জন্য স্লুইস গেট খুলে যমুনা ও পদ্মার নতুন পানি প্রবেশ করানো হয়েছে। এ পানির সঙ্গে দেশীয় মাছ বিলে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। বিলের প্রায় ১৫ হেক্টর আমন পানিতে নিমজ্জিত হলেও কোনো ক্ষতি হবে না। বরং বোনা আমনের জন্য পানি আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। যত পানি বেশি হবে ধান গাছ বাড়তে থাকে। ২৯ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে সাত দিন পানি ছাড়া হয়। ৫ জুলাই গেটটি পুনরায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বোনা আমনের জন্য এ পানি প্রয়োজন ছিল।
সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমন ধান মূলত দুই ধরনের। একটি বোনা আমন, অপরটি রোপা আমন। যত বেশি পানি পাবে ধানের ফলন তত ভালো হবে। পানি প্রবেশের আগে ধানগাছের উচ্চতা ছিল প্রায় এক ফুট। পানি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা ২ দশমিক ৫ ফুট হয়েছে।’
চলতি মৌসুমে গাজনার বিলে ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৭ টন।
বাদাই গ্রামের কৃষক মনজেল সেখ জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ করেছেন। তার জমির কিছু ধান পানিতে নিমজ্জিত হলেও চিন্তিত নন। দ্রুত ধান গাছ পানির ওপর উঠে যাবে। বিলে আরো পানি দরকার। কারণ বোনা আমন ধান যত লম্বা হবে তত বেশি ফলন পাওয়া যাবে। এ ধানের খড় গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় না। কৃষক এ খড় জমিতে পুড়িয়ে জৈব সার তৈরি করেন।
সার্বিক বিষয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রোপা আমন খেতে এভাবে পানি প্রবেশ করালে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রোপা আমন ধান আবাদের সময় এখন বাকি রয়েছে। বোনা আমন পানিরই ধান। যত পানি হবে ততই এ ধানের জন্য ভালো। ফলনও বেশি হবে। পানিতে ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।’