গণভোটের রায় মেনে না নিলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত যেকোনো সরকার উভয়ের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটে প্রকাশিত জনরায় সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম আয়োজিত ‘গণভোট এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের আলোকে গণভোটের নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ এবং তার পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রচলিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। এ অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তিবিশেষ, একক রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের ইচ্ছার ফল নয়। আগের সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সংঘটিত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি বারবার জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন সে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। বিরোধী দল সংসদের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘একটি অংশ জুলাই অভ্যুত্থান ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগের প্রচারিত বয়ানকে প্রতিফলিত করে। তবে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সৃষ্ট রাজনৈতিক সচেতনতা ও আকাঙ্ক্ষা দমন করা যাবে না।’
এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি ছিল বিএনপি, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এবারো গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হওয়া সত্ত্বেও তারা একই পথ অনুসরণ করছে।’ দলটির সামনে গতিপথ পরিবর্তনের আরেকটি সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, ‘পুরনো ব্যবস্থার তৈরি করা নিয়ম অনুসরণ করে রাজনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার যুক্তির বাইরে গিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।’
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, জেডিপি আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ ও ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসাইন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর।