পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা নিয়ে অনেক বছর ধরে ঝুলে থাকা কাজ চুড়ান্ত পরিণতিতে আনতে আমরা কাজ করছি। একটি পরিকল্পনা অনেক বছর ধরে আলমারিতে তোলা ছিল। সেই পরিকল্পনা বের করেছি, চীনারা নিজেই তিস্তা পাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা সেই পরিকল্পনায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মতামত সন্নিবেশ করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের আরেক স্তরে পাঠিয়ে দেবে। ওখান থেকে অনুমোদন পেলে চীনা প্রতিষ্ঠান নকশা করলে আমরা সেই পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে পারব।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকালে রংপুর নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের বড় সমস্যা। তিস্তার ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একই সঙ্গে অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ভাটির মানুষ যেন বারবার বন্যা, নদী ভাঙন ও সেচের পানির জন্য কষ্ট না পায় সে লক্ষ্যে চীনা সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি।
তিনি বলেন, গতবার রংপুর সফরে এসে তিস্তা নদীর বেশি ভাঙন প্রবণ ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজের কথা বলেছিলাম। আমি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই মাসের মধ্যে টাকা ছাড় করে কাজ শুরু করিয়েছি। বর্তমানে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকার কাজ হয়েছে। বাকিটুকু সামনের মৌসুমে করে ফেলব। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ তাদের জমি হারায়নি।
তিনি আরো বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের বড় দাবি হচ্ছে স্থায়ী বাঁধ করে দেয়া। এর জন্য যে পরিমাণ সময় ও রিসোর্স লাগে, সেই সময় আমাদের হাতে নেই। স্থায়ী বাঁধ রংপুর চায়, ফেনী চায়, শরিয়তপুর চায়। আমরা দরিদ্র দেশে বসবাস করি। আমরা অনুমোদিত যে বাজেট পেয়েছিলাম, এর বাইরে গিয়ে তিস্তার ভাঙন রোধে কাজ করেছি।
রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে তিনি বলেন, শ্যামাসুন্দরী খালের জন্য ১০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করতে হবে। এখানে ৬৮টি ড্রেনেজ পয়েন্ট আছে, যেখান থেকে পয়োবর্জ্য পড়ে। সেখানে একটু ছাকুনী দিয়ে চেষ্টা করব যেন অনন্ত প্রবাহ ফিরিয়ে আনা যায়। দুটি পয়েন্টে বাঁধা আছে, সেটি নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেনাবাহিনী, এডিসি রেভিনিউ, পানি উন্নয়ন বোর্ড একসঙ্গে বসে কাজের ম্যাপ করবে। কোথায় কোথায় পানির প্রবাহে সমস্যা আছে, সেগুলো অপসারণ, বাঁধ কেন দেয়া আছে, যৌক্তিকতা আছে কিনা, তার বিকল্প কী হতে পারে সে নিয়ে নিয়ে তারা কাজ করবে। আমরা আশা করছি শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু করতে পারব।
তিনি বলেন, ৬৮টি পয়েন্ট থেকে বর্জ্য এলে এই বর্জ্য কোথাও না কোথাও নিতে হবে। এর জন্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। অল্প টাকায় পয়োবর্জ্য শোধনের চেষ্টা করব। সেই সঙ্গে শ্যামাসুন্দরী খালের প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় রংপুরের স্থানীয় সরকারের পরিচালক আবু জাফর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) মাহবুবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেলব্রীজ সংলগ্ন পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামে তিস্তা নদীর তীর পরিদর্শন করেন।