পুড়েছে ১০ বসতবাড়ি ও ২৫ জিপ গাড়ি

কক্সবাজারে এলপিজি স্টেশন বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০

দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নতুন স্থাপিত একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। পুড়ে গেছে ১০ বসতবাড়ি ও ২৫ পর্যটকবাহী গাড়ি। গতকাল সন্ধ্যায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো গ্যাস লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ জানান, গুরুতর দগ্ধ আব্দুর রহিম (৪৫) ও আবু তাহেরের (৪৫) শরীরের ৯০-৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যরা হলেন সাকিব (২৪), মো. সিরাজ (২৪), মোতাহের (৪৫), কামরুল হাসান (৩০), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘এন আলম’ নামক ওই ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। তিন ঘণ্টার মাঝে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে স্টেশনের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন দ্রুত পাম্পের চারপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রথম দফায় লিকেজ নিয়ন্ত্রণে আনার পর দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার মোট নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়নি।

তিনি আরো বলেন, গ্যাস পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নেয়া হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা ও যানবাহন পুড়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব না মিললেও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ অগ্নিকাণ্ডে ফিলিং স্টেশনটির আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি এবং পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত ২০-২৫টি জিপ গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন আছে।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন এই ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

আরও