সুবিধাজনক সময়ে তিনি সৌদি আরব সফর করবেন। একই সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের সরকারপ্রধানের এ পারস্পরিক সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়ার সৌজন্য সাক্ষাতের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরে এ বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সৌদি রাষ্ট্রদূত ক্রাউন প্রিন্সের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন এবং তার পক্ষ থেকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, ক্রাউন প্রিন্সও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। একইভাবে ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই নেতাই একে অপরের দেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে।’
সফরের সময়সূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমন্ত্রণ এসেছে, এখন দুই পক্ষের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এটা সামারের পরে হবে। তবে কার সফর আগে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘গত চার মাসে নির্বাচিত সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সক্ষম হয়েছে।’ যুদ্ধকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে তার মধ্যপ্রাচ্য সফরের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি চীন ও মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী যে অভ্যর্থনা পেয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমান যোগাযোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। সৌদি আরবকে বাংলাদেশ শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় অংশীদার নয়, বরং একটি ভ্রাতৃপ্রতিম অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির আরো বলেন, ‘সৌদি সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এদিনের বৈঠকেও বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত ক্রাউন প্রিন্সের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ক্রাউন প্রিন্স জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে যে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তা তিনি গ্রহণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরবের প্রতি ভ্রাতৃসুলভ মনোভাব দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত বহন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ক্রাউন প্রিন্সের কাছে আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণও গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা করতে দেশটির মন্ত্রী পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে ঢাকা সফর করবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী একে স্বাগত জানিয়ে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরোও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।