ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে বিপদে আছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু

গত দেড় দশকের অনিয়ম দুর্নীতির ধকল সামলাতে গিয়ে এখন নিজেদের দৈনন্দিন লেনদেনই মেটাতে পারছে না ব্যাংকটি। নগদ টাকার সংকটে ব্যাংকটির ‘ক্যাশ কাউন্টার’ও বন্ধ হওয়ার পথে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গতকাল ব্যাংকটির একটি শাখায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছেন

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা দুই দশক তিনি ব্যাংকটির পরিচালক ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদেও। প্রায় ২১ বছর পর আবারো ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদে ফিরেছেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। গত দেড় দশকের অনিয়ম-দুর্নীতিতে ন্যাশনাল ব্যাংক এখন বিপর্যস্ত। নগদ টাকার তীব্র সংকটের কারণে আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকটি।

এক সময় বিস্তৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের জন্য সুখ্যাতি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংকের। সরকারকে ঋণের জোগান দেয়ার পাশাপাশি দেশের ব্যাংকগুলোকেও নিয়মিত অর্থ ধার দিত ব্যাংকটি। সেসব সুনাম এখন কেবলই দূর অতীত। গত দেড় দশকের অনিয়ম-দুর্নীতির ধকল সামলাতে গিয়ে এখন নিজেদের দৈনন্দিন লেনদেনই মেটাতে পারছে না ন্যাশনাল ব্যাংক। নগদ টাকার সংকটে ‘ক্যাশ কাউন্টার’ও বন্ধ হওয়ার পথে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গতকাল সিলেটে ব্যাংকটির শিবগঞ্জ শাখায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

তারা জানান, সেখান থেকে টাকা তুলতে গিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তারা হয়রানির মুখে পড়ছিলেন। প্রথমদিকে গ্রাহকদের ১০ হাজার টাকার বেশি তুলতে দেয়া হয়নি। চলতি সপ্তাহে টাকা তোলার সীমা ৫ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে ৩ হাজার টাকার বেশি কোনো গ্রাহককে তুলতে দেয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারা শাখার কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

২০০৮ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক ছিল দেশের সেরা ব্যাংকগুলোর একটি। কিন্তু এরপর থেকে ব্যাংকটি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শেষ করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়েও বেশি দায় ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। এমন কোনো অনিয়ম নেই যা ব্যাংকটিকে করতে দেয়া হয়নি। এখন এসে বাংলাদেশ ব্যাংক সব নিয়ম পরিপালনের জন্য গলা চেপে ধরছে। এভাবে গলা চেপে ধরলে তো বাঁচব না। পর্ষদ পুনর্গঠনের পর আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম। ওই সময় টাকা দিলে ব্যাংকটি তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়াতে পারত। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। ব্যাংকের নগদ প্রবাহ ঠিক করতে পারলে অন্য সব সূচকও ঠিক করা যেত —আব্দুল আউয়াল মিন্টু। চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক

ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গত এক মাসে এমন অনেক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন গ্রাহকরা। কখনো কখনো পরিস্থিতি সব পক্ষের জন্য বিব্রতকর পর্যায়েও মোড় নিয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ‘তারল্য সংকট চলছে দুই বছর ধরে। তবে এখনকার মতো পরিস্থিতি অতীতে কখনো দেখা যায়নি। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পর তারল্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আতঙ্কিত গ্রাহকরা এসে মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া বিভিন্ন মেয়াদি আমানতও তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাহকরা ধৈর্য ধরলে ব্যাংকটি বেঁচে যাবে, অন্যথায় ব্যাংক-গ্রাহক সবাই বিপদে পড়বে।’

গণ-অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে সবার আগে ভেঙে দেয়া হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ। বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় গত ২০ আগস্ট। একই সঙ্গে নতুন করে গঠন করা হয় সাত সদস্যের পর্ষদ। এর ধারাবাহিকতায় ২২ আগস্ট পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।

ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। ১৯৯৫ সালের শুরু থেকে ১৯৯৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। পরে উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচিত হন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি পরিচালক ছিলেন। তবে এরপর আবদুল আউয়াল মিন্টু কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্য আর ন্যাশনাল ব্যাংক পর্ষদে ফিরতে পারেননি রাজনৈতিক কারণে।

দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারো ন্যাশনাল ব্যাংক পর্ষদে ফিরে রীতিমতো বিপদে পড়েছেন বলে মনে করছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক ছিল দেশের সেরা ব্যাংকগুলোর একটি। কিন্তু এরপর থেকে এ ব্যাংকটি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শেষ করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়েও বেশি দায় ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। এমন কোনো অনিয়ম নেই যা ব্যাংকটিকে করতে দেয়া হয়নি। এখন এসে বাংলাদেশ ব্যাংক সব নিয়ম পরিপালনের জন্য গলা চেপে ধরছে। এভাবে গলা চেপে ধরলে তো বাঁচব না।’

তিনি বলেন, ‘পর্ষদ পুনর্গঠনের পর আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম। ওই সময় টাকা দিলে ব্যাংকটি তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়াতে পারত। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। ব্যাংকের নগদ প্রবাহ ঠিক করতে পারলে অন্য সব সূচকও ঠিক করা যেত।’

আবদুল আউয়াল মিন্টু এক সময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যাংকটিকে নিয়ে বিপাকে আছেন এর শীর্ষ কর্মকর্তারাও। চলতি বছরের শুরুতে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন তৌহিদুল আলম খান। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির চাকরি ছাড়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোয় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে নতুন চাকরির জন্য তৌহিদুল আলম খান একাধিক ব্যাংকে যোগাযোগ করেছেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকের অন্তত তিনজন শাখা ব্যবস্থাপক বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে শোনা যাচ্ছে ব্যাংকের এমডি পদত্যাগ করছেন। শীর্ষ নির্বাহীর চাকরি ছাড়তে চাওয়ার খবরে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অস্থিরতা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ন্যাশনাল ব্যাংককে টেনে তোলার জন্য একজন সাহসী ও দক্ষ শীর্ষ নির্বাহী দরকার, যা এ মুহূর্তে অনুপস্থিত বলে মনে করছেন তারা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই বছর ধরেই ব্যাংকটির আমানত স্থিতি কমছে। গত বছর শেষেও ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে এসে আমানতের এ স্থিতি ৪০ হাজার ৭৬ কোটি টাকায় নামে। আর গত তিন মাসে আমানত কমেছে আরো ২ হাজার কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আমানত ছিল। যদিও ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি এখন ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ঋণের অর্ধেকেরই বেশি খেলাপি। চলতি ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৬৯৮ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে ব্যাংকটি। এর আগে গত দুই বছরে মোট ৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা নিট লোকসান দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ সালে সিকদার পরিবারের কর্তৃত্বে চলে যাওয়ার পরই ন্যাশনাল ব্যাংকের সুনামে চিড় ধরে। ওই সময় পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হন প্রয়াত জয়নুল হক সিকদার। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনদের ছাড়াও সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদেরও পর্ষদে যুক্ত করেন তিনি। ব্যাংক কোম্পানি আইনে একই পরিবারের সর্বোচ্চ চারজন সদস্য থাকার বিধান থাকলেও ন্যাশনাল ব্যাংক পর্ষদে সিকদার পরিবারের ছিলেন পাঁচ সদস্য। এর পর এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিবারটির একচ্ছত্র কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি পরিচালনায় প্রতিষ্ঠাতা অন্য উদ্যোক্তারা তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেননি। এক পর্যায়ে তাদের বেশির ভাগই ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ থেকে ছিটকে পড়েন। একই সঙ্গে পথ হারাতে থাকে ব্যাংকটি।

অভিযোগ আছে, সে সময় ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ, জনবল নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ করেছেন পরিচালকরা। বিতরণকৃত ঋণের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে বড় কিছু গ্রাহকের কাছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জয়নুল হক সিকদার প্রয়াত হলে চেয়ারম্যান হন তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। এ সময় সিকদার পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ে ন্যাশনাল ব্যাংকেও। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে এক পর্যায়ে পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসান হয় সিকদার পরিবারের কর্তৃত্বের। যদিও সে সময় ব্যাংকারদের ভাষ্য ছিল, ব্যাংকটির পর্ষদ আরো আগে ভেঙে দেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা করেনি। উল্টো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে। জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কিছুটা কঠোর অবস্থান নেয়ার পর সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতিতে চরম বিপর্যস্ত ব্যাংকটির নড়বড়ে আর্থিক পরিস্থিতি সামনে আসতে শুরু করে। সে সময় ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এ এক যুগে জামানত ছাড়াই বেশির ভাগ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের সিংহভাগই ঋণের টাকা ফেরত দেননি।

জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর বেহাল দশা সামনে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের তদবির ও চাপের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে বারবার পিছুও হটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রেও মোটা অংকের ঘুসের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় ব্যাংকটির কর্তৃত্ব ছিল রন হক সিকদারের হাতে। তখন একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে অনুযোগ করে বণিক বার্তাকে বলেছিলেন, ‘সিকদার পরিবারের অধীনে ন্যাশনাল ব্যাংকে যা হয়েছে, সেটিকে ব্যাংকিং বলা যায় না। পরিচালনা পর্ষদ যা চায়, সেটিই হয়। বিভিন্ন নিরীক্ষায় এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে নীরব থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এক গভর্নরসহ অর্থনীতিবিদরাও সে সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের দুর্দশার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছিলেন। সে সময়কার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানে এখন তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান সাত পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ২৮ অক্টোবর তিনটি চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

চিঠিতে বলা হয়, সাদ মুসা গ্রুপের কর্ণধার ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন ও মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালক শামীমা নারগিসের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তারা বেনামে কোম্পানি খুলে কাগুজে বিল তৈরি করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি করে ঋণের নামে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অনুসন্ধানের স্বার্থে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান সাত পরিচালকের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন।

দুদকের মানি লন্ডারিং অনুবিভাগের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল পাঠানো চিঠিতে তলবকৃতদের মধ্যে প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের তিন সন্তান রন হক সিকদার, রিক হক সিকদার ও পারভীন হক সিকদার ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমেরও নাম রয়েছে।

আরও