কুমিল্লা বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ কিংবা ভেঙে আধুনিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে কিনা এ বিষয়ে ১৯ ডিসেম্বর টাউন হল মাঠে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি টাউন হল পরিদর্শন করেন। পরে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কমিটির প্রধান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস।
জানা গেছে, প্রায় ১৩৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন ভেঙে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে তুমুল বিতর্কের শুরু হয়। এ নিয়ে দেশের ৫০ জন বুদ্ধিজীবী এ স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগের সমালোচনা করে বিবৃতি দেন এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের এ স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে। এ বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত দাখিলের জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার জানান, টাউন হলকে আধুনিকায়ন করতে চার বছর ধরে কাজ করছি। কুমিল্লার উন্নয়ন বিদ্বেষী কিছু লোক বুদ্ধিজীবীদের ভুল বুঝিয়ে তাদের দিয়ে টাউন হল সংরক্ষণের বিষয়ে উন্নয়নের বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। গণশুনানিতে বুদ্ধিজীবীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, এ বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। সেখানে সবাই মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন।
কমিটির প্রধান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস সাংবাদিকদের বলেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নও হচ্ছে। টাউন হলের বিষয়ে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে।