জাতিসংঘ দিবসের বার্তায় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

বিভেদের বদলে সংলাপ, সংঘাতের বদলে সহযোগিতা

গতকাল জাতিসংঘের ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় এ কথা জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

বিশ্বজুড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার এগিয়ে নিতে দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক্ষেত্রে বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং ভয়ের পরিবর্তে সংহতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর জোর দেন মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর।’ 

গতকাল জাতিসংঘের ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় এ কথা জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘৮১ বছর ধরে জাতিসংঘ এ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে। অস্ত্রের পরিবর্তে কূটনীতি ও আইনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

পরিবহন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে মানুষ ও পৃথিবীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নারী ও মেয়েদের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং সুযোগ সম্প্রসারণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে সব দেশের সমানভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতেও সংস্থাটির গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্ব ব্যবস্থায় জাতিসংঘ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।

বর্তমানে বিশ্ব সংঘাতে বিপর্যস্ত, জলবায়ু সংকটে জর্জরিত এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যে ক্ষতবিক্ষত। পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সেগুলোকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ 

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল মূল্যবোধগুলো পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং ভয়ের পরিবর্তে সংহতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর জোর দেন মহাসচিব।

জাতিসংঘ দিবসে সব দেশের প্রতি এসব অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সেগুলোর ভিত্তি হিসেবে থাকা বাধ্যবাধকতার প্রতি অঙ্গীকার নতুন করে জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার। একই সঙ্গে মানুষের সেবা এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘকে আরো শক্তিশালী করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

আরও