গবেষণা ও উদ্ভাবনে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ডুয়েট) দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করাই প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ করে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে ডুয়েটকে উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ মিলনায়তনে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের একাডেমিক উৎকর্ষ পুরস্কার-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডিনস পুরস্কার দেয়া হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক বনাম ডুয়েট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্য ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। ১৯৮১ সালে এর নাম ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ করা হয়। পরে ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে এটি রূপান্তরিত হয়।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়। এর মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ডুয়েটের নামকরণ আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য। একই সঙ্গে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
উপাচার্য বলেন, প্রতি বছর ডুয়েট থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। তারা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, উড়াল মহাসড়কসহ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও ডুয়েটের স্নাতকেরা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্রশিক্ষা, রোবোটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস, বৃহৎ তথ্যভান্ডার, ন্যানোপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করাই ডুয়েটের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজ আলম।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।