পরিকল্পিত ড্রেনেজ, টেকসই সড়ক অবকাঠামো ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। পাশাপাশি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য নগরীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানাল খনন করা হলেও দীর্ঘদিনেও পরিকল্পিত সংস্কার না হওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসন তো দূরের কথা, খাল দুটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বাবুখাঁ, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ সোটাপীর, শান্তিবাগসহ অন্তত ৫০টি এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের নতুন (৩৩ নম্বর) ওয়ার্ডের আজিজুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা ভূপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার এলাকায় পানি নেমে যাওয়ার জন্য কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় অল্প বৃষ্টিতেই নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, মাহীগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মো. আজিজউল্লাহ জানান, তার এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘পুরনো রংপুর বলতে আমাদের শহর এলাকাকেই বোঝায়। তাই এখানে চালসহ অনেক পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। মাহীগঞ্জ বাজার থেকে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে দিয়ে সাতমাথা হয়ে সড়কটি নগরীর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় গিয়ে সংযোগ স্থাপন করেছে। এ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ রিকশা, সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে।’
তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। কারণ কোথাও ড্রেন রাস্তার চেয়ে উঁচু, আবার কোথাও খালের চেয়ে রাস্তা নিচু।
রংপুর সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন ১৮টি ওয়ার্ডসহ পুরো রংপুর সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। দুই-এক বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। তাই আমরা নতুন প্রকল্প আনার চেষ্টা করছি। প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া গেলে ড্রেনেজ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।’