রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। দাম কিছুটা কমলেও প্রায় সব সবজির দাম এখনো ৭০ থেকে ১০০ টাকা। তবে মাছ, মুরগি ও ডিম এখনো উচ্চ দামেই বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কোনো কোনো বাজারে এসব পণ্যের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন করে বেড়েছে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও ময়দার দাম। ফলে ভোক্তাদের এখনো উচ্চ দামেই বাজার করতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কমানো যাচ্ছে না। এছাড়া মুরগি, ডিমসহ অনেক পণ্যের উৎপাদনে বিঘ্ন হওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলেই মনে করছেন তারা।
এদিকে শুধু বাংলাদেশে নয়, গত আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর গত আগস্টেই খাদ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, ময়দা, ছোলার দাম বেড়েছে। সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে কোথাও কোথাও খুচরা ব্যবসায়ীরা এ দামের চেয়েও বেশি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সরকার ৫ টাকা বাড়ালেও ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা পাম অয়েলের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশকিছু দিন থেকে অস্থির থাকা ময়দার বাজারে এখনো স্থীতিশীলতা আসেনি। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা। এছাড়া ছোলার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত দিনের তুলনায় গত কয়েক দিনে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। যদিও এখনো পুরোপুরি ভোক্তার স্বস্তি ফেরেনি। মুরগি, ডিমের দাম আগের মতো থাকলেও তা এখনো অনেক বেশি। মাছের দামেও ওঠানামা রয়েছে। এরমধ্যে তেলসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের অস্বস্তি রয়েছে।
রাজধানীর মহাখালী বাজার, রামপুরা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, মিরপুর-৬ ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার পর্যালোচনা এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সুগন্ধি চালের (পোলাও)। এ চাল বর্তমানে ২১৫ টাকায় কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট, নাজিরশাইল জাতের সরু চাল ৮০-৯০ টাকা, পাইজাম, আটাশ জাতের মাঝারি চাল ৬৫-৭০ টাকা এবং স্বর্ণা, ইরি জাতের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। অন্যদিকে মসুর ১০০, মুগ ১৬০, চিনি ১১৫, পেঁয়াজ ৫৫-৬০, রসুন আকারভেদে ১২০-১৯০ ও আদা ১২০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম পাইকারি বাজারে ১০ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে এখনো ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী মুরগি ৬৫০-৭৫০ ও সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ আকারভেদে ৩৫০-৫৫০, কাতল ৩৫০-৪৫০, চিংড়ি ৮০০-১২০০, ইলিশ ১৮০০-২৬০০, তেলাপিয়া ২৪০-২৮০, পাঙাশ ২২০-২৭০, পাবদা ৩৫০-৪৫০, চাষের কৈ ৩৫০-৪০০ ও সিলভার কার্প ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ডিমের দাম এখনো প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনো অধিকাংশই ভোক্তার নাগালের বাইরে রয়েছে। করলা ৮০-১০০, ঢেঁড়স ৬০-৮০, বেগুন আকারভেদে ৮০-১৩০, টমেটো ১০০-১২০, ঝিঙা ৭০-৮০, কচুর লতি ৮০-৯০, লাউ প্রতি পিস ৬০-৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০, পটোল ৫০-৬০, কাঁকরোল ৬০-৮০, শিম ১৫০-২০০, বরবটি ৮০-১০০, কাঁচামরিচ ১৪০-১৮০, পেঁপে ৪০ ও আলু ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি হিসাব বলছে, মূল্যস্ফীতি কমছে। যদিও বাজারে এর প্রতিফলন নেই বলে মনে করেন ভোক্তারা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মোস্তাক আহমেদ মনে করেন, সরকার বাজার পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করে না বলেই ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে আনছে না। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মুরগি ও সবজির দাম একই রয়েছে, কিন্তু এটি কমছে না। এখন আর ব্যাগ ভরে বাজার করা হয় না, সব পণ্য কেনায় একটি সীমাবদ্ধতা চলে এসেছে। ডিমের দাম যদি ১৫০ টাকা হয়, তবে তা খুব বেশি। এর ওপর চাল, ডাল ও তেলের দামও বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে গেলে এ চিত্র আরো বেশি দেখা যায়। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করে বাজার পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি না হলে ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা কোনোভাবেই যাবে না।’