আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের মনের নানা সংশয়ের কথা উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই নির্বাচনে কার কথা স্থান পাবে? আগের সেই ধারা কি অব্যাহত থাকবে?’ তিনি মনে করেন, নির্বাচন এখন একটি অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হলেও এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও তা কি অর্থবহ হবে? আমরা কি প্রকৃত কোনো পরিবর্তন পাব, নাকি আবার সেই পুরনো গড্ডালিকা প্রবাহে প্রবেশ করব?’
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের বর্তমান সংকটকাল কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশ আজ রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার—এই চারটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ বছরে মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন, দুর্নীতি এবং নাগরিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশে একটি গভীর শাসনতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়েছিল। এই কর্তৃত্ববাদ, ভয়ভীতি এবং জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধেই জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ঘটে। এটি ছিল সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার একটি ধারাবাহিক প্রকাশ।
সংলাপে জোর দিয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো আরো বলেন, আগামী দিনের রাষ্ট্রচিন্তায় প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে— নারী সমাজ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর।
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক উত্থান-পতনের যে ভঙ্গুর কাঠামো বাংলাদেশে বিদ্যমান, তাকে মৌলিকভাবে ভাঙতে না পারলে উন্নয়নের ধারা টেকসই হবে না। তাই একটি অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমেই নাগরিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।