চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রকল্পের মেয়াদ বাকি এক বছর এখনো ভবন নির্মাণ শুরু হয়নি

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ সরকারি অনুমোদন পেয়েছে ২০১৮ সালে। ২০১৯ সাল থেকে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ সরকারি অনুমোদন পেয়েছে ২০১৮ সালে। ২০১৯ সাল থেকে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী গাছতলায় স্থাপন করা হবে মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস। কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার ছয় বছর পরও সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে এক বছর বাকি থাকলেও নির্মাণকাজ শুরুই করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে শুধু আউটসোর্সিংয়ের ১৫ জন কর্মচারী দিয়ে। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদও রয়েছে এক বছর। তাদের বেতন-ভাতাও রয়েছে বকেয়া। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ২০টি পদ থাকলেও একটি পদেও হাসপাতালের নিজস্ব লোকবল নেই। ২০টি পদই শূন্য। হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী অন্য হাসপাতাল থেকে এসে এখানে কাজ করেন। তাছাড়া অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কিউরেটর ও প্রভাষকের ৭৮টি থাকলেও শূন্য রয়েছে ২৮টি। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ৯৮টি পদ থাকলেও ৪৮টি শূন্য।

সরজমিনে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের একটি ফ্লোরে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছেন। একটি কক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। আর কয়েকটি কক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ছয়টি ব্যাচে ৫০ জন করে ৭৫ শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও ক্লাস শুরু হয় ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে এক জনসভায় চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে মেডিকেল কলেজটি সরকারি অনুমোদন পায়। ২০১৯ সাল থেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী গাছতলা নামক স্থানে মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানে বন্যা, নদীভাঙন এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় প্রকল্পটিকে ‘লাল’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ২৫-৩৩টি অবকাঠামো নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এজন্য ৩০ একর জমি অধিগ্রহণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ১০টি আবাসিক ভবন নির্মাণ, ১১টি অনাবাসিক ভবন, লিফট, ১২ হাজার ৯২৭টি মেডিকেল যন্ত্রপাতি এবং তিনটি গাড়ি কেনা হবে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখনো ভবন নির্মাণ শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ আমার কাছে স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ শুরু হবে।

মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা চলছে। ছেলেদের জন্য বাসা ভাড়া করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের জন্য নতুন বাসা ভাড়া করার প্রক্রিয়া চলমান। নতুন একাডেমিক ভবনে গ্রন্থাগার এবং ল্যাবরেটরির সুবিধা নেয়া সহজ হবে। এতে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সালেহা নাজনীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবে নিজস্ব ক্যাম্পাস। এরই মধ্যে প্রকল্পের পিডি নিয়োগ হয়েছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় কিছু অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক। সীমিত সম্পদের মধ্যেই আমরা কোনোমতে চলছি।’

শূন্যপদের বিষয়ে তিনি জানান, আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা প্রশাসনিক কাজ করছেন। শূন্য পদ পূরণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা পূরণ হবে।

আরও