নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আজ কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করাই ছিল প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির সময় বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। এ দেশের সমাজে একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নে পরিবারকে যুক্ত করে কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সহজ হবে।
তিনি আরো বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখলে চলবে না। ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।
নারীর ক্ষমতায়নে যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনা যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী তার কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ অন্যের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারলে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। এ কারণে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কাজে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কার্যক্রম সমন্বিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নারীদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরির সময় তাদের বাস্তব প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য এমন কর্মসূচি নিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাও পান। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।