জাতীয় বাজেটে শিশুদের অগ্রাধিকার চায় সেভ দ্য চিলড্রেন

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিশুদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন।

সংস্থাটি বলছে, কেবল বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরং ন্যায়ভিত্তিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের কাছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাসহ মৌলিক সেবাগুলো পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুকেন্দ্রিক বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তারা।

গতকাল এক বিবৃতিতে সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, তাদের সুপারিশগুলো মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্থাটির সহায়তায় পরিচালিত শিশু সংগঠন ‘ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্স’ সম্প্রতি দেশের ২৭ জেলার শিশুদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দীর্ঘদিন বন্যার পানিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুরা শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়ছে। সিলেটের চা বাগান এলাকায় বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে প্রতিরোধযোগ্য রোগেও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। উপকূলীয় বরগুনায় লবণাক্ত পানির কারণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ফরিদপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মধ্যে মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি, সাতক্ষীরায় খেলার মাঠ দখল এবং চুয়াডাঙ্গায় বিপুলসংখ্যক শিশুর শিক্ষার বাইরে থেকে বেড়ে ওঠার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, এমন বাস্তবতা শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, শিশুসুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।

এ প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেটে পুনরায় ‘শিশু বাজেট বিবরণী’ প্রকাশ, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শিশুকেন্দ্রিক বরাদ্দ, ব্যয় ও অগ্রগতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটের ১৬ শতাংশে উন্নীত করা এবং ৫০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ১১ শতাংশে উন্নীত করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে কার্যকর নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, টিকাদান ও পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও মাদকাসক্তি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে শিশু ও নারী সহায়তা সেলের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য চাহিদাভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং বন্যা, মূল্যস্ফীতি কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘চাইল্ড বেনিফিট কনটিনজেন্সি ফান্ড’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল স্কুল, শিশুকেন্দ্রিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা মেয়েদের জন্য পরিবেশবান্ধব দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও