একই সঙ্গে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-৩০) এবং আমদানিনীতি আদেশ, ২০২৬-২৯-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইনের মাধ্যমে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর কার্যক্রম একীভূত করে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা গঠন করা হবে। এর ফলে অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রফতানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন ও সরকারি সেবা আরো সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত হবে। আইনটি সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ডিজিটাল লাইসেন্সিং, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল সমন্বয়, সেবা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সহজ অনুমোদন, অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহার, একক ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু, নীতিগত অসামঞ্জস্য ও কার্যক্রমের দ্বৈততা দূর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত ও কার্যকর চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কৌশলপত্র ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং, ওপেক্স মডেল, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, বায়ু ও পানি বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো ও ক্লিন কুকিং প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নীতি ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক তহবিল, সহজ অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, কর অবকাশ, স্থানীয় শিল্পে প্রণোদনা, কৃষিজমি ও পরিবেশ সুরক্ষা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দক্ষ জনবল তৈরিতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ, অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
অন্যদিকে নতুন আমদানিনীতি আদেশে এলসির পাশাপাশি সেলস কন্ট্রাক্ট, ওপেন অ্যাকাউন্টসহ বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতিতে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠা, রফতানিমুখী শিল্পে ফ্রি অব কস্ট ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির সুবিধা সম্প্রসারণ, কোডেক্স স্ট্যান্ডার্ড, ফিট ফর হিউম্যান কনজাম্পশন, মেলামিনমুক্ত ও এইচজিপি-ফ্রি খাদ্য আমদানির বিধান, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশীর সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করে তাদের শিল্প বিনিয়োগ সহজ করা, ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক কাস্টমস, খালস-উত্তর নিরীক্ষা, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর, ইলেকট্রনিক লাইসেন্স ও পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার জন্য প্রাণিসম্পদের রোগমুক্ত সিমেন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।