অবশেষে সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটক পরিবহনের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। প্রয়োজনীয় সার্ভে ও নিরাপত্তা সনদ হালনাগাদসহ কাগজপত্র জমা দেয়ার পর গতকাল জাহাজগুলোর অনুকূলে রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। অনুমতি পাওয়া জাহাজ তিনটি হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ। তবে পর্যটকের স্বল্পতায় আজ প্রথম দিন একটি জাহাজই চলাচল করবে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শাখার ৪ নভেম্বরের পৃথক আদেশে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ তিনটির চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির উপপরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) সালমা আফরোজ। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের নিবন্ধন নম্বর সি-২০৫৩, বার আউলিয়ার সি-১৪২৭ এবং টেকনাফের সি-২০৮০। জাহাজগুলোর ভয়েজ লাইসেন্স যথাক্রমে ০১/২৬, ০২/২৬ ও ০৩/২৬।
অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। সেন্ট মার্টিনে পৌঁছার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট, বেলা ১টা ও ১টা ৪৫ মিনিট। ফিরতি যাত্রায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস বেলা ২টা ১৫ মিনিটে, বার আউলিয়া বেলা ২টা ৩০ মিনিটে এবং টেকনাফ বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে সেন্ট মার্টিন ছাড়বে।
নুনিয়ারছড়া পৌঁছার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট, রাত ৮টা ও রাত ৯টা।
তিন জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন হলেও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দৈনিক পর্যটক সীমা ৩ হাজার ৫০০ জন। বিআইডব্লিউটিএর আদেশে বলা হয়েছে, নতুন কোনো অপারেটর চলাচলের অনুমতি চাইলে সব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা বিবেচনায় যাত্রীসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কোনো জাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কারণে চলাচল বন্ধ রাখলে অন্য অপারেটররা সমন্বয়ের মাধ্যমে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ জনের সীমা বজায় রেখে যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ও পর্যটকবাহী জাহাজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বণিক বার্তাকে জানান, জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে প্রয়োজনীয় সার্ভে ও সার্টিফিকেট হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক। সরকার সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের অনুমতি দিলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কারণে এতদিন জাহাজগুলো রুট পারমিট পায়নি। গতকাল তিনটি জাহাজকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এখনো পর্যটন মৌসুম পুরোপুরি জমে ওঠেনি। স্বল্প সময়ের নোটিসে আজ ভোরে সেন্ট মার্টিন যেতে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। এ কারণে প্রথম দিন একটি জাহাজই চলাচল করবে। এর পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী জাহাজ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য বেশকিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বীপে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড, কেয়াবনে প্রবেশ, মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ। রাতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, আলোকসজ্জা ও বারবিকিউ পার্টিও করা যাবে না।
বিআইডব্লিউটিএর আদেশ অনুযায়ী, কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের চলাচলের অনুমতি ৫ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে বার আউলিয়া ও টেকনাফের অনুমতির মেয়াদ ৫ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ফলে তিনটি জাহাজ একই দিনে অনুমতি পেলেও কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের চলাচলের অনুমতির মেয়াদ অন্য দুটি জাহাজের তুলনায় প্রায় তিন মাস কম। অনুমতি পাওয়া তিনটি জাহাজের মধ্যে এমভি টেকনাফ মেসার্স পারাপার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, বাকি দুটি যথাক্রমে বার আউলিয়া ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেস মেসার্স কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মালিকানাধীন।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) নয়ন শীল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পর্যটন কেন্দ্র ও পর্যটকবাহী পরিবহনের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ সার্টিফিকেট ছাড়া রুট পারমিট দেয়া হয়নি। তিনটি জাহাজ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়ায় সেন্ট মার্টিনে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’