গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কলেজের অধ্যক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারও রয়েছেন।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
একই চিঠিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাতাগুলো সশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ জন। কিন্তু বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেয়া হয়। আর শিক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী এ ঘটনা চরম দায়িত্ব অবহেলার শামিল। পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা সাত প্রভাষক শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।
এদিকে শিক্ষা বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষাটি ভুল প্রশ্নে নেয়া হলেও নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী সব বিষয়ের পরীক্ষা ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাস অনুযায়ী যথারীতি নেয়া হচ্ছে।