ফুলগাজীর হাটবাজারে নিত্যপণ্যের সংকট

আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মাত্র বাড়ি ফিরেছেন মো. মাসুদ। ফেনীর ফুলগাজী বাজারে এসেছেন চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য কেনার জন্য।

আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মাত্র বাড়ি ফিরেছেন মো. মাসুদ। ফেনীর ফুলগাজী বাজারে এসেছেন চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য কেনার জন্য। বাজারের ছোট-বড় অনেক দোকান ঘুরে শুধু তিন কেজি চাল, আধা কেজি ডাল নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। কোনো দোকানেই পাওয়া যায়নি আলু, পেঁয়াজ, রসুন বা আটা।

দোকানিরা বলছেন, দোকানে বিক্রিযোগ্য চাল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ও আটাসহ সবই ছিল। তবে তা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। শত শত বস্তা চাল নষ্ট হয়েছে। সড়কে এখনো পানি থাকায় শহর থেকে পণ্য নিয়ে আসা যাচ্ছে না। পেট্রল পাম্পে তেল না থাকায় পরিবহনও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে না পেরে অনিশ্চিয়তায় পড়েছে বন্যাদুর্গতরা।

শুধু ফুলগাজীই নয়; এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জেলার ছোট বড় প্রায় হাটবাজারে। ফেনীর বড় বাজারের আড়তগুলো পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় এখনো বেচাকেনা করার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। তবে দ্রুত পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েকদিনের বন্যায় পরিবার নিয়ে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্রমেই মানুষ ঘরে ফিরে আসছে। ঘরে থাকা সব খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে চাল, ডাল, আলু, তেল, আটা, চিনিসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। কিন্তু পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছে।

শ্রীপুর গ্রামের দোকানি মাহফুজ মিয়া বলেন, ‘দোকানে অল্প পরিমাণে চাল, ডাল, আটাসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল। দোকান ভেঙে সবকিছু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। কিছু ঋণ করে ফুলগাজী বাজারে এসেছি, দোকানের জন্য কিছু পণ্য নিতে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি কোনো পণ্য নেই। যেগুলো ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আপাতত কিছু পান-সুপারি নিয়ে যাচ্ছি। দোকানে বসে অন্তত এসব বিক্রি করে সংসার চালানো যায় কিনা দেখি।’

ফুলগাজী উপজেলার পুরনো মুন্সির হাটের অন্নপূর্ণা স্টোরের মালিক মিঠু বণিক বলেন, ‘গত দুই-তিন দিনে ফুলগাজীর অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। রাস্তাঘাট শুকিয়েছে। মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরেছে। নিত্যপণ্যের জন্য দোকানে আসছে। কিন্তু আমরা তাদের কি দেব? বন্যায় দোকান ও গুদামে পানি উঠেছে পাঁচ-ছয় ফুট। সবকিছুই তো নষ্ট হয়ে গেছে।’

মেসার্স কাজী বেকারির মালিক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ দোকানে পণ্য কিনতে আসছে। আমাদের কাছে পণ্য থাকলেই তো বিক্রি করব। আগের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। ফেনী বাজারের আড়তগুলো এখনো চালু হয়নি। তাই নতুন করে পণ্য নিয়ে আসা যাচ্ছে না।’

মাখন অ্যান্ড সন্সের মালিক মাখন লাল বলেন, ‘বন্যায় দোকানে ও গুদামে থাকা ৮-১০ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এসব পরিষ্কার করতে ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। দোকান, গুদাম ও বাড়ি, সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাজারগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সব পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে বাজারে পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাপ্লাই চেইন ঠিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত হাটবাজারে ব্যাংকগুলো এখনো চালু করা যায়নি। পেট্রল পাম্পগুলোয় জ্বালানি তেল নেই। মানুষের পকেটে টাকা থাকলেও দোকানে পণ্য নেই। বিষয়টি জেলা সমন্বয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। শিগগির বাজারগুলোয় নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারব।’

আরও