সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতে খরচ পড়বে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ব্যয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে। আর কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে আগামী শনিবার। সরকারিভাবে দেশটিতে যেতে খরচ হতে পারে ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো। আর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৩-৪ লাখ টাকা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ব্যয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। আর সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষার খরচ, উড়োজাহাজ ভাড়া ও বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারিভাবে দেশটিতে ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার পরই বেসরকারি এজেন্সি লোক পাঠাতে পারবে বলেও জানা গেছে।

বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির এক স্বত্বাধিকারী অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মালয়েশিয়ায় বেসরকারিভাবে একটি চাহিদাপত্র কিনতে খরচ পড়বে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। এর সঙ্গে সিন্ডিকেট ফি ২ লাখ টাকা। এ খরচ নিয়ে সিন্ডিকেটের মধ্যে আলোচনা চলছে, যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাইরে সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে মাঠ থেকে কর্মী সংগ্রহ বাবদ খরচ বাড়বে আরো এক-দেড় লাখ টাকা। ফলে বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতে ন্যূনতম ৭-৮ লাখ টাকা খরচ পড়বে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসন ব্যয়ের বিষয়টি উঠে আসে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি। মালয়েশিয়া অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির চাহিদাপত্র জমা পড়েছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া এসব চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে বিনামূল্যে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, ‘বিদেশ যেতে বিমানের টিকিট, মেডিকেল পরীক্ষা, সার্ভিস চার্জসহ কিছু মৌলিক খরচ থাকতে পারে। এ কারণে একেবারে বিনামূল্যে না বলে ন্যূনতম খরচে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনপ্রতি আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর ব্যয়ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো গতকালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর শুরু হবে। এদিন থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোয় পরীক্ষা করা যাবে। এর আগে করা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য তা প্রক্রিয়াকরণ হবে না। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কর্মীদের ওই তালিকা দেখে সংশ্লিষ্ট সেন্টার সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও