ঝিনাইদহে আনার চাষে সফলতা

ছাদ যেন লাল-সবুজের ক্যানভাস

ছাদবাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে লালচে-গোলাপি আনার। কোথাও ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে মনোজিৎ বিশ্বাসের ছাদ বাগানটি এখন যেন এক রঙিন ক্যানভাস। প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এ ফলের স্বর্গরাজ্য। শখের ছাদবাগান দিয়ে শুরু হলেও তার এ উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক সাফল্যে। আনার গাছে ভর্তি তার লাল-সবুজের এ ক্যানভাস দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অনেক মানুষ।

জানা গেছে, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিৎ বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১ জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।

ছাদ বাগান ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে গাছের ডাল নুয়ে পড়েছে। কোনো গাছে থোকায় থোকায় পাকা ফল ঝুলছে। কোথাও আবার টকটকে লাল ফুল ফুটে আছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস।

জানা যায়, এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০-২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদবাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এ বাগান দেখতে আসছেন।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার লালন শাহ কলেজছাত্রী ফতেমা বেগম বলেন, আনার ফলের আবাদ দেখতে আসছি। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। এমন বাগান আমিও বাড়ির ছাদে করব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে আসা পলাশ হোসেন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমি লোকমুখে শুনেছি, ঝিনাইদহের হিজলি গ্রামে ছাদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করেছেন প্রবাসফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। তাই আমি দেখতে এসেছি। মনোজিতের সঙ্গে কথাও বলেছি। আমি আমার জেলায় ফিরে গিয়ে এমন ফলের বাগান করব। আমিও বাণিজ্যিকভাবে আনার বাগান শুরু করব।’

উদ্যোক্তা মনোজিৎ বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার গাছ সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেয়ার ফলে এবারো ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিৎ বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাদবাগান শুধু বিষমুক্ত ফল উৎপাদনই নয়; বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অব্যবহৃত স্থানকে উৎপাদনশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।’

আরও