শিক্ষক ও জনবল সংকট

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে সোনাগাজীর ৬৭% প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষক ও দাপ্তরিক জনবল সংকটে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে। এমনকি জনবল সংকটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১১০ বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৬টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৪টিতে চলতি দায়িত্ব এবং ৫০টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে। অর্থাৎ উপজেলার ৬৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ৬৭২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬১২ জন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদেরই দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে।

বিদ্যালয় তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিত্র আরো ভয়াবহ। পাঁচটি ক্লাস্টারের জন্য পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এছাড়া দাপ্তরিক কাজের জন্য তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের পদ থাকলেও সেখানে একজনও নেই। উচ্চমান সহকারীর পদটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে শূন্য। এমনকি নেই কোনো অফিস সহায়কও। একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার দিয়ে ১১০টি বিদ্যালয় তদারকি করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার হোসাইন আহম্মদ জানান, পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালানো অত্যন্ত কঠিন। পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতায় উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসএম তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে পদায়ন হচ্ছে না। ফলে দাপ্তরিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে।’"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। শিক্ষাবান্ধব সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’

আরও