‘বিসিএস ক্যাডার’-এর দিনে খাবার লাগে ৭ হাজার টাকার

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যশোরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘বিসিএস ক্যাডার’।

ব্যতিক্রমী নামের গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক মানুষ। খামারির দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠা ‘বিসিএস ক্যাডার’-এর পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কোরবানির হাটে গরুটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারসংশ্লিষ্টরা।

যশোরের সীতারামপুর গ্রামের মহিদুল জামান কাজলের খামারে এ গরু দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে উৎসুক জনতা ও ক্রেতারা। গরুর এমন নামের কারণ জানতে চাইলে খামারি কাজল বলেন, “বিশেষভাবে লালন-পালন করেছি ব্রাহমা জাতের এ সুন্দর গরুটিকে। এটি আমার গোয়ালের সবচেয়ে সুন্দর গরু। তাই শখ করে এ নাম রেখেছি।’

তিনি জানান, এ প্রজাতির গরু লালন-পালনে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। যেমন পরিশ্রম করতে হয় কোনো ছাত্রকে বিসিএস ক্যাডার হতে। একজন ছাত্র ও তার অভিভাবকের কঠোর পরিশ্রম আর মানসম্মত প্রস্তুতির ফসল যেমন বিসিএস ক্যাডার, তেমনি ব্রাহমা জাতের এ গরুটিও সেই মানের। এর পরিচর্যায়ও বেশ পরিশ্রম করতে হয়। আর আভিজাত্য ধরে রাখতে নেয়া হয় বাড়তি যত্ন। শ্যাম্পু দিয়ে দুই বেলা গোসল, ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের বাতাস আর মশার কামড় থেকে বাঁচাতে সার্বক্ষণিক কয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে গরুটির জন্য।

গতকাল খামার ঘুরে দেখা গেছে, উজ্জ্বল গায়ের রঙের বিশালদেহী ব্রাহমা জাতের সাদা গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।

সরকারি চাকরিজীবী ও খামারের মালিক মহিদুল জামান কাজল জানান, গরুর খাবারের তালিকায় রয়েছে ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা ও সয়াবিন খৈল—সবই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমতামুক্ত। দিনে দুবার শ্যাম্পু দিয়ে গোসল, সারাক্ষণ ফ্যানের বাতাস ও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় কয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন শুধু দানাদার খাবারেই খরচ হয় প্রায় ৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাসে প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, যশোরের আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৬ হাজার ২৫৯টি, ছাগল ৮১ হাজার ২৭৬ ও ভেড়া ৪৪২টি। জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৮১২টি। সে হিসাবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জেলার আট উপজেলায় নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪০ এবং গবাদিপশু চাষীর সংখ্যা ১৪ হাজার ১৩৫। খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা হয়।’

আরও