দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা গেছে আরো তিন শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, বরিশাল বিভাগে দুজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৫৭ জন মারা গেছে। এর মধ্যে অক্টোবরের এ পর্যন্ত মারা গেছে ১১২ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩ এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ জন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জনে। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন। আর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৪১৫ জন।
তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৬৩৮ জন। এছাড়া বরিশালে ১৯১ জন, খুলনায় ১৪১, রাজশাহীতে ১২৮, চট্টগ্রামে ১০৫, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৭২ এবং সিলেটে ১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০০ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরো ১ হাজার ২১৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯৯ জন শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৪২ জনের। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৪ জন ও চট্টগ্রামে আছে আটজন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ২৩ হাজার ১৯৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন। আর ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯৮ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১২৬ জন।