আগামীকাল থেকে সিলেটে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত (রেড জোন) এলাকাগুলো লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল সিলেটে সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সিলেটে করোনা সংক্রমণের রেড জোনগুলো এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নগরীর বেশির ভাগ এলাকাই রেড জোনে পড়বে।
জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, রেড জোন এলাকায় লকডাউনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকা রেড জোন, সেটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ এ বিষয়ে সিভিল সার্জন চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, আমরা রেড জোন চিহ্নিত হওয়া এলাকাকে লকডাউন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নগরীর ভেতরে যেহেতু রোগী বেশি, তাই নগরীর বেশির ভাগ এলাকাই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষণা করা হবে। নগরীর উত্তর সুরমায় ১ থেকে ২৪ নং ওয়ার্ডভুক্ত এলাকাগুলোয় করোনা রোগী সবচেয়ে বেশি। তাই এখানকার সব ওয়ার্ডই লকডাউন করা হতে পারে। আর দক্ষিণ সুরমার তিনটি ওয়ার্ডের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
উপজেলা পর্যায়ে লকডাউনের ব্যাপারে সিভিল সার্জন বলেন, উপজেলার যেসব ইউনিয়নে সংক্রমণ বেশি সেসব ইউনিয়নকে লকডাউন করা হবে। তবে অনেক ইউনিয়নে দেখা গেছে, রোগী কেবল একটি এলাকায় বেশি। ইউনিয়নের অন্যান্য জায়গায় তেমন রোগী নেই। ফলে পুরো ইউনিয়ন লকডাউন না করে নির্দিষ্ট ওই এলাকাটি লকডাউনের ব্যাপারেও আমরা চিন্তা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও মতামত নেয়া হচ্ছে। আজকালের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১১ এপ্রিল সিলেট জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন জেলা প্রশাসক। করোনা সংক্রমণের হার বিবেচনায় এখন দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন হিসেবে ভাগ করছে সরকার। গত সোমবার রেড ও ইয়েলো জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।