সংসদে লিখিত বক্তব্যে পাটমন্ত্রী

পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশী ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃত্রিম মোড়কের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে সরকার নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।’

এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে রফতানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার পাট আইন ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতি, ২০২২ প্রণয়ন করেছে।’

এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার পিএলসির (জেডিপিসি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘‌শিল্পের জন্য উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পাটপণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে “‍জুট প্রডাক্ট কর্নার” স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পাট অধিদপ্তর এবং জেডিপিসি যৌথভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করছে, যাতে দেশী-বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘‌সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের আলোকে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে ২০২০ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা দেয়া মিলগুলোর মধ্যে নয়টি এরই মধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও