আমাদের এলাকা সারা বছরই পানিতে ডুবে থাকত। কেউ ফসল আবাদ করতে পারত না। বিএডিসির সহযোগিতায় এবার আমরা বোরো ধান উৎপাদন করতে পেরেছি। এতে সংসারের টানাটানিটা অন্তত দূর হবে। যশোরের ভবদহ এলাকার বিল কপালিয়ার কৃষক মো. আফজাল হোসেন জানান এ কথা। শুধু আফজাল হোসেন নন, তার মতো অনেক কৃষকেরই এবার দুঃখ ঘুচেছে বিএডিসির সহযোগিতায়। যশোরের দুঃখ ভবদহ অঞ্চলে এবার চার হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১৬ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে বিএডিসি (সেচ বিভাগ) যশোর ৫৭টি ক্ষমতা সম্পন্নসহ ১৭০টি সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জলাবদ্ধ বিল কেদারিয়া, বিল কপালিয়া, মানুষ মরারবিল, আড়পাতাবিল, বিলখুকশিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন করেছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় চার হাজার হেক্টর ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে।
যশোরের মনিরামপুরের নেহালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান জানান, চার বছর পর তিনি দুই একর বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো পেয়েছেন। বিএডিসির সেচ সহযোগিতায় তার মতো ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ কৃষক এবার বোরো ধান উৎপাদন করতে পেরেছেন। এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে কেউ ফসল আবাদ করতে পারতেন না।
বিএডিসি (সেচ) যশোরের সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, প্রত্যক্ষভাবে ২৭টি বিল এবং পরোক্ষভাবে আরো ২৬টি বিলের পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ভবদহ এলাকার ২৩টি ইউনিয়নের ২১৮টি গ্রাম এবং ৩৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলাবদ্ধ এলাকায় অধিকাংশ স্থানে যেকোনো ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত ছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, মসজিদ প্রায় সারা বছরই পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ফলে এলাকাবাসীকে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতে হয়েছে।
বিএডিসি (সেচ) যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল রশিদ জানান, আগামী বছর আরো বৃহৎ আকারে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সাত হাজার হেক্টর চাষের আওতায় এনে ফসল ফলানো সম্ভব হবে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নসহ আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছি।