আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক সংগঠনেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নজির রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্বাহী আদেশে নয়, বরং আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে 'গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন' শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্যক্তি ও সংগঠন উভয়েরই বিচার করার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। এ কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি।বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তাকে প্রত্যাবর্তনের জন্য আনুষ্ঠানিক পত্র ও তাগিদ পাঠানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। আপিলের কোনো আইনি সুযোগ থাকলে সেটি আদালতই নির্ধারণ করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গণহত্যার অভিযোগে দায়ীদের বিচারের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে গণহত্যা সংঘটিত করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করাকে সরকার সমর্থন করে না। বরং বিচারিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ। সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়েরই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক সংগঠনেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নজির রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব গণহত্যার জন্য এখনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। বরং জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ অবস্থায় দলটির পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেয়া হবে না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা এমনভাবে সংস্কার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সুযোগ না পায়।

আরও