সংসদ-স্পিকারের অবর্তমানে কে পড়াবেন নতুন সরকারের শপথ?

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকারের গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া মূলত শুরু হয় দলের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে শপথ কে পড়াবেন, কখন পড়ানো হবে, সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা বণ্টন কীভাবে করা হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে ঘোষণা করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল। যেখানে সরকার গঠনের জন্যে দুইশরও বেশি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করেছে বিএনপি। কিন্তু এই নতুন সরকারের গঠন এবং তার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকারের গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া মূলত শুরু হয় দলের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে শপথ কে পড়াবেন, কখন পড়ানো হবে, সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা বণ্টন কীভাবে করা হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু তা বেসরকারি ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নয়। সংবিধানের ১৪৮ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপনের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। তবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশে আরো কিছু দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কাজ সম্পাদন হবে। সেখানে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টিতে জোর দেন। তার ধারণা, ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতে শপথ গ্রহণ হতে পারে, তবে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি নাগাদ হয়ে যাওয়ার কথা।

সেক্ষেত্রে সব ঠিক থাকলে, নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে শপথ কে পড়াবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত নবনির্বাচিতদের শপথ পড়িয়ে থাকেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেয়ায় স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। তবে এর সমাধান আছে।

সংবিধানের ১৪৮ নং অনুচ্ছেদে দুইটি উপায় নিয়ে বলা আছে। নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনার জন্যে রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন। এই সময়সীমার মধ্যে সেই ব্যক্তি শপথ পড়ানোয় ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।

এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতি শপথ পাঠ করানোর জন্যে মনোনীত করতে পারেন। তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন।

শপথ গ্রহণের পর এবার ক্ষমতা হস্তান্তর। আর প্রক্রিয়াটি সম্পাদিত হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। যে দল ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, সে দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্যে আহ্বান করা হবে। সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এরপর নতুন সরকার গঠন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের পর দায়িত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।

আরও