যমুনা রেলসেতু দিয়ে উত্তরের পথে ট্রেন ছুটবে আজ

রাজশাহী থেকে সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে যমুনা রেল সেতু পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর সময় একটি ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সেতুটি অতিক্রম করেছিল।

নিয়মিত ট্রেন চলাচলের জন্য আজ মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) খুলে দেয়া হচ্ছে নবনির্মিত যমুনা রেলসেতু। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সেতু উদ্বোধনের ফলে রেলপথের মাধ্যমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ঢাকা ও অন্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এ সেতু পার হতে ট্রেনে সময় লাগবে দুই থেকে তিন মিনিট।

গতকাল সোমবার সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ এম মাসুদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং এজন্য সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের পর উভয় দিক থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা-পরিচালক এম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেতুটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেতুর পূর্ব পাশে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফাহিমুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপানের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহা-পরিচালক ইতো তেরুয়ুকির অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

নতুন রেলওয়ে সেতুটি যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে অবস্থিত। সেতুর দুটি লেনের একটি ব্যবহার করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল ট্র্যাক ডুয়েলগেজ সেতুর একটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে জানান তিনি। মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুটি ৫০টি পিলার এবং ৪৯টি স্প্যানের ওপর নির্মিত। অত্যাধুনিক ইস্পাত প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত এ সেতুর স্থায়িত্ব ১০০ বছর। এ কাঠামোটি ‘বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রমাণ।

এদিন উদ্বোধনী ট্রেনের অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সকাল ১১টা ২০ মিনিটে পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন থেকে সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্তে সায়েদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে যাবেন এবং দুপুর ১২টায় পূর্ব প্রান্তে ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে আসবেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে, রাজশাহী থেকে সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে যমুনা রেল সেতু পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর সময় একটি ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সেতুটি অতিক্রম করেছিল।

১৯৯৮ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ৩৮টি ট্রেন প্রতিদিন তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে যাতায়াত করছে যা ঢাকাসহ বাংলাদেশের মূল অংশকে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, যমুনা রেল সেতু পার হতে ট্রেনের আগের তুলনায় কম সময় লাগবে। এতে উভয় দিকে সময় সাশ্রয় হবে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার ২০২০ সালে ডেডিকেটেড রেলওয়ে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং একই বছরের ২৯ নভেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা যার ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং বাকি অর্থ সরকার দিয়েছে। জাপানের ওটিজি এবং আইএইচআই যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করেছে।

সেতুর প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি ব্যবহারের জন্য ট্রেন যাত্রীদের পন্টেজ চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে, যা পদ্মা সেতুতেও আদায় করা হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি রুট-ভিত্তিক ভাড়ার চার্ট তৈরি করেছে যার অধীনে পন্টেজ চার্জ আদায়ের জন্য ট্রেনের আসনের শ্রেণীর ওপর নির্ভর করে সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে।

আরও