ঢাকার পানি দূষণ ও নদী-খাল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় এ অর্থায়ন দিয়ে স্যানিটেশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের লক্ষ্য ঢাকার স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করা, যাতে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা ফলাফলভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। কর্মসূচির মাধ্যমে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা আর ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাবেন। বিশেষভাবে দূষণ ও সেবার ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, ঢাকার লাখো মানুষের জীবনযাত্রা জলাশয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন শহরের বর্জ্য ও দূষণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ প্রকল্প ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলবে।
ঢাকায় মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ আছে। বাকিদের বর্জ্যপানি অপরিশোধিত অবস্থায় নদী ও খালে চলে যাচ্ছে। শিল্প দূষণও গুরুতর: রফতানিমুখী গার্মেন্টস কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। আর ৭ হাজারের বেশি কারখানা প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি জলাশয়ে ফেলছে—যার ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ স্নায়বিক নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকা অগ্রাধিকার পাবে। প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ বৃদ্ধি, পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার উন্নয়ন, কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রম এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ জোরদার করা হবে।
বিশ্বব্যাংক স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান, সুদমুক্ত ও স্বল্পসুদী ঋণ প্রদান করেছে। বর্তমানে চলমান ৪৩টি প্রকল্পে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি রয়েছে।