চলতি বছরে দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ফেনীর কৃষকরা। কয়েকবার বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষেতেই পঁচে গেছে কোটি কোটি টাকার ফসল। প্রতিকূলতা পেরিয়ে গত কয়েকদিন যাবত আমন চাষাবাদে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন ফেনীর কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে ফেনীতে ৬৭ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬২ হাজার হেক্টর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষি শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে।
সরকারি হিসাব মতে, ২০২৪ এর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই লক্ষাধিক কৃষক। তাদের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ হাজার কোটি টাকা। সে ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই চলতি বছরের জুলাই মাসে আবারো বন্যায় আক্রান্ত হয় ফেনী। এ বন্যায় ২৯ হাজার কৃষকের অন্তত ৩৮ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।
তবে বারবার ক্ষতির মুখে পড়লেও হাল ছাড়েননি এ অঞ্চলের কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া পেয়ে আমন আবাদে মনোযোগী হয়েছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, এবার ফেনী জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫৫ হেক্টর। এ লক্ষ্য পূরণে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের পরামর্শে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই চাষে মনযোগ দেন কৃষকরা। পুনরায় বীজতলা তৈরির পর চলতি মাসের শুরুর দিকে আমন আবাদ শুরু করেন। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় এরই মধ্যেই ফেনীতে ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমনে দ্বিতীয়দফায় পর্যাপ্ত বীজতলা বসানোর কারণে সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু সংকট রয়েছে শ্রমিকের, দামও বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আতিক উল্লাহ বলেন, ফেনীতে জুলাইয়ের শুরুর দিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করে তাদের উৎপাদনে মনোযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরও এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।