সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে সংস্থাটি আয়োজিত বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অত্যন্ত মেধার অধিকারী। তবে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সম্মান জানানো ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সমাজের সর্বস্তরে আসা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের চলাচলের সুবিধার্থে র্যাম্পের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সঠিক শিক্ষার সুযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ অত্যন্ত যথার্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় বড় ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণের সময় র্যাম্প সংযোজন কিংবা গণপরিবহনে তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা এবং সাধারণ নাগরিকদেরও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমই পারে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে। সমাজের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা নিয়ে মানুষ এখনো প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। এসব বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর মাঝে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ কবীর।