মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ইশরাক হোসেন। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
‘আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে’, বলেন ইশরাক হোসেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার কারণে দল যাতেবিব্রত না হয় সেজন্য পদত্যাগ করেছি। অস্ত্র, ইশরাক, মাদক এগুলো ছিল আমাকে নিয়ে করা সংবাদের কী ওয়ার্ড। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আমি শুরু করেছি।'
অস্ত্র হাতে গত শনিবার মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন ঢাকা-৬ আসনের এ সংসদ সদস্য। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে গতকাল জানা যায়।
আজ দুপুর পৌনে ১টায় কয়েকশত নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করেন। এর পর সংবাদ সম্মেলনে ওইদিনের ঘটনার তার নিজস্ব ভাষ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত। কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে হেয় করা হয়েছে, দলও বিব্রত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সেদিন কোনো ভুল করিনি।’
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’
অবশ্য পদত্যাগের নির্দেশের খবর ছড়ালে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ইশরাক লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যেকোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যেকোনো নির্দেশ আসার সাথে সাথে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়। অতএব এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ অথবা আরো দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা আমার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।’
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গত শনিবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ইশরাক হোসেনকে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ইশরাকের ভাষ্য, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল।