ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নয়, বাংলাদেশী পরিচয়ই সবার বড় পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। আজ সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে দেশের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। আমাদের সবার একটি পরিচয়, আমরা বাংলাদেশী। এটিই আমাদের বড় পরিচয়। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পেরেছেন। তাদের ভালোবাসার ঋণ মানুষের পাশে থেকে এবং তাদের জন্য কাজ করে শোধ করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
আফরোজা খানম আরো বলেন, আপনাদের সুখের দিনে আমাকে না ডাকলেও চলবে, কিন্তু দুঃখের দিনে আমাকে ডাকবেন। আমি অবশ্যই আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে থাকব।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানকে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার একটি সুন্দর আয়োজন উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে সবার মধ্যে আনন্দের আবহ দেখে তার ভালো লাগছে।
অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন খাদ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার, শ্রী কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে বক্তব্য দেন। এতে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী।
এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।