শিল্প অধ্যুষিত আট এলাকা

ফেব্রুয়ারির বেতন হয়নি ৫৩% কারখানায়, ঈদ বোনাস দেয়নি ৮৪%

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন চলতি মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল।

আর ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা ছিল আজ ১২ মার্চের মধ্যে। দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত সংস্থা শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আট শিল্প এলাকার ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানার কর্মীরা ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। আর ঈদের বোনাস পরিশোধ হয়নি ৮৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ কারখানায়।

দেশে শিল্প অধ্যুষিত আট এলাকা আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেটে মোট কারখানার সংখ্যা ১০ হাজার ১০০। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানা ৪ হাজার ৭৮৭টি। এ হিসাবে বেতন পরিশোধ করা কারখানার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। পরিশোধ হয়নি ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানায়।

মোট ১০ হাজার ১০০ কারখানার মধ্যে ঈদুল ফিতরের বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১ হাজার ৬১৯টিতে। পরিশোধ হয়নি বা বকেয়া রয়েছে ৮ হাজার ৪৮১ কারখানার। এ হিসাবে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কারখানায়। পরিশোধ হয়নি ৮৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ কারখানায়।

আট এলাকায় তৈরি পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৫৪২। এর মধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে ৮০৬টি, বেতন বকেয়া রয়েছে ৭৩৬ কারখানায়। বিজিএমইএর সদস্য মোট কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১৫৭টিতে। পরিশোধ হয়নি ১ হাজার ৩৮৫টির।

পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএ সদস্য কারখানার ৬২৭টির মধ্যে ফেব্রুয়ারির বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৮৯টিতে, পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ৪৩৮। বিকেএমইএ সদস্য মোট কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৫৪টিতে। পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৫।

তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সদস্য মোট ৩৩০টির মধ্যে ফেব্রুয়ারির বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে ৯৮টি। বেতন বকেয়া পরিশোধ করেনি ২৩২ কারখানা। বিটিএমএ সদস্য মোট কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ২১টিতে। ৩০৯টিতে পরিশোধ হয়নি।

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন ৪২৯ কারখানার মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩৪০টিতে, পরিশোধ হয়নি ৮৯টিতে। বেপজা আওতাধীন ৪২৯ কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ২০৪টিতে। পরিশোধ হয়নি ২২৫টিতে।

আট এলাকায় মোট ৭৬ পাটকলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা ৬৫। পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা ১১। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৩৫টিতে। পরিশোধ হয়নি ৪১ কারখানায়। আট এলাকায় কোনো সংগঠনের আওতায় এমন অন্যান্য ৭ হাজার ৯৬ কারখানার মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩ হাজার ২৮৯টিতে। পরিশোধ হয়নি এমন কারখানার সংখ্যা গতকাল বিকাল পর্যন্ত ছিল ৩ হাজার ৮০৭। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ১ হাজার ৪৪৮ কারখানায়। পরিশোধ হয়নি ৫ হাজার ৯৪৮টিতে।

৩ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৪তম সভা এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি টিসিসি) ২৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন সাত কর্মদিবসের মধ্যে এবং ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে নির্দেশনা প্রদান করে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘‌মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে যেন জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের কোনো কারণ ছাড়া লে-অফ বা ছাঁটাই করা যাবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিক পক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি নির্ধারণ করবেন।

সভায় শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আহ্বান জানান। তাছাড়া নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

আরও