উত্তাল সাগর

বরগুনায় ডুবে গেল জেলেদের আশ্রয় দেয়া ট্রলার— ১৬ উদ্ধার, নিখোঁজ দুজন

ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারেরা জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জমাদ্দারের ট্রলারে গিয়ে উঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে গেলে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন

বৈরি আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

জানা গেছে, একটি ট্রলার ডুবে গেলে জেলেরা কাছাকাছি থাকা আরেকটি ট্রলারে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেই ট্রলারটিও এক সময় ডুবে যায়।

উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গতকাল রাত ৮টার দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন খলিল মাস্টার, রিদয় জমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আছিফ, নাসির, নুরুজ্জামান। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানায়, গতকাল সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে তপন জমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে ১৩ জন এবং আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারে ৫ জেলে ছিলেন। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তারা জানান, ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারেরা জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জমাদ্দারের ট্রলারে গিয়ে উঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে গেলে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় উপকূলের পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘গতকাল ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অন্য দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’

তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনো অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর উত্তল রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হবো। আমাদের জানানো হয়েছে গতকাল ১৮ জন জেলে নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। ১৮ জেলেই নিখোঁজ রয়েছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। কোনো জেলে উদ্ধার হয়েছে কিনা এ ধরনের তথ্য আমাদের কাছে নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

আরও