বিচার দ্রুত শেষ করতে গঠন হতে পারে ট্রাইব্যুনাল-৩ —আইন উপদেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-৩ গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘বিচার করার লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমরা অবিচল আছি। বিচার প্রক্রিয়ার গতির বিষয়েও আমরা সন্তুষ্ট।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-৩ গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘বিচার করার লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমরা অবিচল আছি। বিচার প্রক্রিয়ার গতির বিষয়েও আমরা সন্তুষ্ট।’

গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভবন ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনসংলগ্ন টিনশেড ভবন খালি হয়ে গেলে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-৩ গঠন করতে পারি। এটি করা গেলে গুমসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারকাজ দ্রুত করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘টিনশেডে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই মূল ভবনে চলে আসবে। আমরা বিচারকার্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। শুধু আইন মন্ত্রণালয়ই নয়, গৃহায়নসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমাণিত হলো।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। বিগত সরকারের হত্যা, গুম, নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধের বিচারের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের বিচারকসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত টিম বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আমাদের ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার আছে। সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বার্থে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এক হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং হাজারও মানুষকে পঙ্গু করার ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপরিহার্য-অনিবার্য।’

ট্রাইব্যুনালের ভবনের সংস্কারকাজ দেখলেন দুই উপদেষ্টা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনের সংস্কারকাজ ঘুরে দেখলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং গৃহায়ন, গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় তারা ট্রাইব্যুনালে যান। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ছিলেন।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার এ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলার কাজ এখন জোরেশোরেই চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ মিলে এসব মামলার বিচার করছে। তবে মূল ভবনের সংস্কার শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যক্রম চলছে অস্থায়ী টিনশেড ভবনে।

আরও