ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ফলাফলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা আজ। তবে গতকালই পরাশক্তি দেশগুলো তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা তারেক রহমান এবং বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। পরাশক্তির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতারাও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারেক রহমানকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অভিনন্দন বার্তা তার নেতৃত্ব ও সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
গতকাল সকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে তারেক রহমান ও বিএনপিকে অভিনন্দন জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
গত রাতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও দলনেতা তারেক রহমানসহ বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। এ অঞ্চলের সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’
আরেক পরাশক্তি চীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে। গতকাল সকালেই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ঢাকার চীনা দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, স্মরণীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশের জনগণকে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন। আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার প্রত্যাশা করি।
এরপর সন্ধ্যায় ঢাকার চীনা দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট দেয়। সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের জবাব উল্লেখ করা হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে যে ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। অর্থাৎ বিএনপি নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের মন্তব্য জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘চীন লক্ষ করেছে যে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘এক ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে সমর্থন করে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে; উচ্চ মানের বেল্ট অ্যান্ড রোড এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গভীর করতে এবং দুই দেশের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান এ মুখপাত্র।
যুক্তরাজ্যও অভিনন্দন জানিয়েছে তারেক রহমান ও বিএনপিকে। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার ব্রিটিশ হাই কমিশনের ফেসবুক পেজে দেয়া বার্তায় বলা হয়, ‘নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন। বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন, কারণ দেশটি একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। আমরা আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু ও নিরাপত্তার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করি।’
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক বিভিন্ন কারণে আলোচিত ছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব না পড়লেও কূটনৈতিক টানাপড়েনের ধারাবাহিকতায় উভয় দেশই একে অন্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।
নরেন্দ্র মোদি গতকাল সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। মোদি তার পোস্টে তারেক রহমান ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজকে ট্যাগ করেছেন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন মোদি। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ের অভিমুখে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এ ফলাফল আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।’
তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।’
পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনেও আলাপ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপের বিষয়টি গতকাল বিকালে নরেন্দ্র মোদির এক্স হ্যান্ডলে দেয়া পোস্টে উল্লেখ করা হয়। পোস্টে মোদি লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভকামনা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছি।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও গতকাল অভিনন্দন জানিয়েছেন তারেক রহমানকে। এ সময় তিনি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। বেলা ১টার দিকে এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সব ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এ বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।’
নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দিত করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গতকাল সকালেই অভিনন্দন বার্তা আসে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স হ্যান্ডলে দেয়া পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বিশাল বিজয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমি জনাব তারেক রহমানকে আমার উষ্ণতম অভিনন্দন জানাই। সফলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই। আমাদের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল ও তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিতে আমি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি।’
এরপর গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয়ে পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
ফোনালাপে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি একে অন্যের সার্বভৌম সমতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কথোপকথনে উভয় নেতা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অসাধারণ অবদান এবং দুই দেশের মানুষকে কাছাকাছি আনার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তারেক রহমানকে তার সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তারেক রহমানও শাহবাজ শরিফকে পাল্টা আমন্ত্রণ জানান। উভয় নেতা আগামী দিনে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন বলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিকের সংযোগস্থলে অবস্থান, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কারণে অনেক দিন ধরেই বিশ্বের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরো দৃশ্যমান হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ঘিরে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় নতুন মেরুকরণ দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আবার জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় হওয়া নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী দেশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,”বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভ করায় আমি তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। এটি গণতন্ত্রের একটি বিজয়। অসাধারণ চ্যালেঞ্জপূর্ণ একটি সময় অতিক্রম করার পর বাংলাদেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—এই তিন অক্ষে সমান্তরাল আগ্রহ বাংলাদেশের কৌশলগত ভারসাম্য নীতি অনেক আগে থেকেই আলোচিত। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক চুক্তি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলোও। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বৈশ্বিক বার্তাপ্রবাহে ঢাকার ভূমিকাও আলোচনায় উঠে এসেছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের আগেই তারেক রহমানকে প্রভাবশালী দেশগুলোর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা পরাশক্তি দেশগুলোর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তাকে মোটাদাগে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেক বার্তায় আছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মনে করেন, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সফলতা হিসেবেই মনে করছে পরাশক্তিসহ অন্য দেশগুলো। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে, বিশেষ করে তারেক রহমানকে। তার অর্থ হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তারা খুব উষ্ণতার সঙ্গে সামনের সরকারকে স্বাগত জানাচ্ছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাজ করার আগ্রহ এ বার্তাগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারে যে ইতিবাচকতা তৈরি হয়েছে, সেটা ভবিষ্যৎকে ঘিরে। সামগ্রিকভাবে আগামী সরকার একটা খুব ভালো ভাবমূর্তি নিয়ে যাত্রা করতে যাচ্ছে। এ ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দিচ্ছে। তারা বোঝাতে চাইছে আমরা যেন ভালো কাজ করি। এটা একটা অবলিগেশনও। তারা চাইছে আমরা যেন যথাযথভাবে তাদের বার্তার প্রতিক্রিয়া দেখাই।’
প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশের বার্তাকে কূটনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বার্তা প্রদানের মধ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির রেওয়াজটা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি এগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এক ধরনের স্বীকৃতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অভিনন্দন বার্তাগুলোতে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মমতা ব্যানার্জির “তারেক ভাই” সম্বোধনটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভারতের সঙ্গে আমাদের পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির বড় ভূমিকা রয়েছে। এটাকে আমরা বলি সাবস্টেট ডিপ্লোমেসি। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ভেতরে যে বিভিন্ন রাজ্য থাকে, সেই রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা বা আলাদা সম্পর্কটাকে হাইলাইট করে কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়াটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বার্তাগুলোর মাধ্যমে উঠে এসেছে। কারণ পাঁচ বছরের একটা ম্যান্ডেট, পাশাপাশি আগামীতেও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বিএনপি বা তারেক রহমান। সব মিলিয়ে আমি মনে করি যে বার্তাগুলো কূটনৈতিক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে গ্রহণ করা বা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।’
নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের জনগণ, বিএনপি এবং তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা জানানো দেশগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ।
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি লিখেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন। নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ের পথে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোয় সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করতে আপনাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় অর্জনের জন্য তারেক রহমান ও বিএনপিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এ বিপুল জনসমর্থন আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রকাশ এবং তা শান্তি ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু অভিনন্দন বার্তায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন। আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নেয়া ও গভীর করতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, আগামী বছরগুলোয় আমাদের এ অংশীদারত্বের পরিসর ও শক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে।’
শ্রীলংকায় ২০২২ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন আনুরা কুমারা দিশানায়েকে। তিনিও অভিনন্দন জানিয়েছেন তারেক রহমানকে। আনুরা তার এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত বার্তায় বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা এবং এ নির্বাচনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন। নির্বাচনের ফলাফল তার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যাশা করছি।’