করদাতাদের হয়রানি ছাড়াই অতিরিক্ত কর সমন্বয়ের পর সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, পুরো কর ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনা। করদাতা রিটার্নের সঙ্গে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেবেন। এটি আমাদের সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও সংযুক্ত থাকবে। ফলে রিফান্ড অনুমোদন হলেই তা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। কোনো ধরনের শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হবে না।’
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রিফান্ড দেয়া ও নেয়ার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় অনৈতিক বিষয় জড়িত থাকে। আমরা যদি বছরে চার লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারি, তাহলে করদাতাদের ন্যায্য পাওনা পাঁচশ কোটি টাকা ফেরত দিতে সমস্যা কোথায়?’
তিনি বলেন, ‘করদাতাদের শুধু কর দেয়ার বিষয়টি নয়, তাদের ন্যায্য পাওনাও সময়মতো ফেরত দেয়া উচিত। এ সংস্কৃতি আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।’
আইন প্রয়োগের ঘাটতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা করনীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু কার্যক্রম বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছি। কর আদায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়নি। ফলে একদিকে করদাতারা চাপের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’
আবদুর রহমান খান জানান, ‘করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে ন্যূনতম কর ও টার্নওভার কর আগের মতোই রাখা হবে। যদি সম্ভব হয়, ন্যূনতম করের হার কমানো হবে। এছাড়া উৎসে করের হারও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কর সমন্বয় শেষে করদাতারা সেটি ক্রেডিট হিসেবে নিতে পারবেন।’
এ সময় এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান, অপূর্ব কান্তি দাসসহ আরো অনেকে আলোচনায় অংশ নেন।