প্রস্তুতি এবং সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করলে বাংলাদেশে এ মুহূর্তে উচ্চকক্ষ করার সক্ষমতা নেই বলে সিপিডির স্টাডিতে উঠে এসেছে। গবেষণায় আরো উঠে আসে, উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে সংঘাত হবে। দুটি কক্ষের মধ্যকার এ সংঘাত নিরসনের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করার পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটিও বিবেচ্য বিষয়।
গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ কি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে?’ শিরোনামে আয়োজিত সংলাপে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও অধ্যাপক নিজাম আহমেদ। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, অধ্যাপক রওনক জাহান, ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ অন্য ব্যক্তিরা। স্টাডিটি তুলে ধরেন সিপিডির রিসার্চ ডাইরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নিজাম আহমেদ।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা অতীতে থাকলে কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করাটা সম্ভব হতো না। আর এটি না করতে পারলে বিগত বছরগুলোর জালিয়াতি এবং একতরফা নির্বাচন হয়েছে সেটিও করা হতো না। বর্তমান সংস্কারগুলোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তনসহ বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘উচ্চকক্ষ কার্যকর হলে সেটি সংসদকে জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসবে। সেটি কী পদ্ধতিতে হবে আলোচনা হতে পারে। তবে উচ্চকক্ষে পিআর নয়, এটিই বিএনপির দলীয় অবস্থান।’