আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম জোরদার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতা জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের (সাওয়েন) প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। সীমান্ত, পরিবহন ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে অপরাধী চক্র আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার পরিচালনা করছে।
শুধু বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেফতারের মধ্যে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তদন্ত ও নিষ্ক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, প্রতিটি জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।
অনলাইনভিত্তিক বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবেলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ ও মানি লন্ডারিংবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী। উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জব্দ করা জীবিত বন্যপ্রাণীর প্রত্যাবাসনেও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সাওয়েনের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা এসব অগ্রাধিকারকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রূপ দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
তিনি বলেন, সাওয়েনের প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সদস্য দেশগুলো কাঠমান্ডু থেকে আরো শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সাওয়েনের সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন পরিবেশমন্ত্রী।
সম্মেলনে নেপালের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, সাওয়েনের মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রাসাদ আচার্য এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।