নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতাররা হলেন মহিষাশুড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৩), এবাদুল্লাহ (৪০), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. আইয়ুব (৩০)।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, নিহত কিশোরীর মা ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে ৪ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, আজ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
গতকাল সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে বিচার চান নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার। তবে বিচার পায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এরপর বুধবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে আরো ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে সকালে একই এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।