বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার আশা দেখছেন বলে জানিয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সহজ ভিসা ব্যবস্থা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ, যৌথ বিনিয়োগ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার দাবি দিয়েছেন তারা।
‘ব্রিজিং গ্যাপস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ প্রদর্শনীর চতুর্থ আয়োজন। পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন পণ্যের ১০৪টি স্টল রয়েছে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিজনেস অপরচুনিটিজ কনফারেন্স’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এছাড়া পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সিবিশন ইন্ডাস্ট্রির (পিএআইই) চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহাদ বার্লাসসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। লজিস্টিকস, সাপোর্ট, হসপিটালিটি, এয়ারলাইনস ও ভেন্যু পার্টনার হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত রয়েছে।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘ঢাকায় “মেড ইন পাকিস্তান” প্রদর্শনীর চতুর্থ আয়োজন বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক বাজারে পাকিস্তানি পণ্য পুনঃরফতানির সুযোগও রয়েছে।’
দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের যাতায়াত সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সহজ ভিসা ব্যবস্থা ও সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। যৌথ বিনিয়োগ, এফটিএ ও তৃতীয় দেশে যৌথভাবে বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ একসময় বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ব্যবসায়ীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা ছিল। বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাচ্ছেন। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদারে আগ্রহী উদ্যোক্তা, রফতানিকারক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এ আয়োজনে সমাগম ঘটবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হবে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো গেলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত হতে পারে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারদের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নতুন আমদানি, রফতানি ও বিনিয়োগ উদ্যোগের ক্ষেত্র তৈরিরও আশা দেখছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।