ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৪ মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে এরই মধ্যে হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বরাবরের মতো এবারো ক্যাম্পাসেই ঈদ করছেন হাজারখানেক শিক্ষার্থী। কারো পারিবারিক সমস্যা, কারো আবারো ঈদের পরেই চাকরির পরীক্ষা। কেউ কেউ বাড়ি যাচ্ছেন না রুটি-রুজির অবলম্বন খণ্ডকালীন চাকরিটা বাঁচানোর তাগিদে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হল মিলিয়ে হাজারখানেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন ফজলুল হক মুসলিম হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, বিজয় একাত্তর হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, মাস্টার দা সূর্যসেন হল, রোকেয়া হল ও অন্যান্য নারী হলে। আবাসিক হলভেদে ঈদে থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য মাথাপিছু ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বাজেট রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন হলে খাবারেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে সকালের নাশতায় লাচ্ছা-সেমাই, ফিরনি কিংবা মিষ্টি থাকবেই; সঙ্গে থাকতে পারে রুটি-পরোটা, ভুনা খিচুড়ি কিংবা ডিম। মধ্যাহ্নভোজে থাকছে পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি কিংবা খিচুড়ি; সঙ্গে মুরগির রোস্ট, গরু কিংবা খাসির মাংস। সঙ্গে থাকছে কোমল পানীয় কিংবা দই।
ঐতিহ্য ধরে রাখা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা বাড়ি যায় না। কারো পরীক্ষা, কেউবা খণ্ডকালীন চাকরির সূত্রে ঢাকায় থেকে যায়। আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।’
এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এবারের আয়োজনের ভিন্নতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা খাবারের মান বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত সপ্তাহে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার ঈদের দুটি মিল দেয়া হচ্ছে। বিগত বছরগুলোয় শুধু সকালের নাশতা দেয়া হতো, এবার সকালের নাশতার পাশাপাশি দুপুরের খাবারও দেয়া হবে।’ এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ঈদ শোভাযাত্রার আয়োজন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঈদের দিন সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামায়াতের পর এ আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন।
ঈদ আনন্দে বৈচিত্র্য আনতেই প্রথমবারের মতো এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীসহ বিভিন্ন সার্কেলের সঙ্গে আমরা বিভিন্নভাবে ঈদ উদযাপন করি। ঈদকে আরেকটু নতুন আঙ্গিকে উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঈদ র্যালি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের আনন্দ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে এ প্রয়াস।’ কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব উদ্যোগই যে বিশেষ প্রেক্ষাপটে নেয়া হবে বিষয়টি এমন নয়। মূলদ ঈদ হলো একটি উৎসব, আনন্দের বিষয়। আনন্দটাকে আরেকটু বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে, রঙিন করতে, নতুন মাত্রা দিতে ঈদ র্যালি সংযোজনের চিন্তা করা হয়েছে। ঈদকে আরেকটু আনন্দঘন করতে এ নতুন সংযোজন।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে ছুটি শেষে ৬ এপ্রিলের পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ফের মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের প্রাচীনতম এ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান রাফি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আনন্দে ছুটি কাটাতেই মানুষ বাড়িতে ফেরে। তবে বাড়ি ফেরার উপলক্ষটা আমি পাই না। এখন হলে ঈদ করলে ভালো লাগে। হলই এখন আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।’
স্যার এএফ রহমান হলের শিক্ষার্থী সানি সরকার বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ, তা যখন পরিবারের সঙ্গে হয়, তখন অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে। এবার কিছু ব্যক্তিগত কারণে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে না আমার। আমাদের হলের আরো অনেকেই ঈদ করবেন হলে থেকে।’