নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৭৮২টি। এর মধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশসান বলছে, এসব কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা থাকবে। নিরাপত্তার জন্য সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাঠে থাকবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে ভোটার রয়েছেন ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন।
পুলিশ বলছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল, প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির পাশের কেন্দ্র এবং বিগত দিনে যেসব কেন্দ্রে ঝামেলা হয়েছে, সেসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘ঝামেলা হতে পারে’ এমন সম্ভাব্য কয়েকটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোটে দুই সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, উৎসবমুখর করতে পুলিশ সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ৭৮২টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাঠে আছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে তদারকি করছেন। প্রার্থীদের কোনো ধরনের আপত্তি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সমাধান করা হচ্ছে।’
মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অর্ধেক সীমানাপ্রাচীর না থাকা ও সংঘাতের আশঙ্কায় কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি।
নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলো মাহাতা বলেন, ‘কেন্দ্রটি কেন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এ কেন্দ্রে কখনো কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে।’
অন্যদিকে মান্দা উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাপ্রাচীর নেই। এসব বিদ্যালয়ে দুদিন আগেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠের উত্তর পাশে টিনের প্রাচীর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।
বদলগাছী উপজেলার ঢেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারদিকে প্রাচীর রয়েছে। এ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীরা ‘ঝামেলা’ তৈরি করতে পারে—এ আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দুদিন আগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
সদর উপজেলার বরুণকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর থাকলেও অপেক্ষাকৃত নিচু। সেখানে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি।
মহাদেবপুর উপজেলার পীরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আতোয়ার রহমান বলেন, ‘সরকার শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়াতে হবে। যেন ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।’
নওগাঁ সদর উপজেলার পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, ‘আমাদের স্কুলটি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানা নেই আমার। স্কুলের নিজস্ব কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। তবে আরো ক্যামেরা দেবে কিনা এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।’
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার অভিযোগ, নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়া হচ্ছে, তার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।
শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, প্রতিটি কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রত্যাশা তার।
নওগাঁ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘ভোটাররা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে আসে এবং ভোট দেয় তাহলে হয়তো কেউ কিছু করতে পারবে না। তবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মাঠে নেমে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে অনুমান করা যায় কোনো কোনো কেন্দ্র দখল হতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্র আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৫৫টি অফলাইন বডি অন ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি ১০৯টির বেশি গুরুপত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অনলাইন বডি অন ক্যামেরা থাকবে, যা সিসিটিভি ক্যামেরার মতো কাজ করবে।