সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোর তরমুজখেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাদ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। কৃষকরা বলছেন, বৃষ্টি তাদের সব শেষ করে দিয়েছে। লাভ করা তো দূরের কথা, পুঁজি উঠবে কিনা সে চিন্তায় রয়েছে।
উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অনেক তরমুজখেত পানিতে তলিয়ে আছে। পাকা, আধাপাকা ও কচি তরমুজের একটি অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। কৃষকরা সেচ দিয়ে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বিষণ্ন হয়ে খেতের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়নে সরজমিনে দেখা গেছে, ভারি বৃষ্টির কারণে তরমুজখেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধাপাকা ও কচি তরমুজগুলোর একাংশ পানিতে ডুবে আছে। মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে খেত থেকে পানি বের করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও দেখা গেছে বিষণ্ন মনে ক্ষেতের ধারে বসে আছেন কৃষক।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলি, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী—এ ছয় ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকরা মিরসরাইয়ে এসে তরমুজ আবাদ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কিছু কৃষকও তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবাদ হওয়া তরমুজের নিচু জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি পুনরায় বৃষ্টি হয়, ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে তরমুজ আবাদ করা কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ‘মহাজন, এনজিও ও শহরের আড়তদার থেকে আগাম টাকা নিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ বছর এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেতে ভালো তরমুজ হয়নি। কঠোর পরিশ্রম করে যা ফলিয়েছি, তাও এখন ভারি বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অবস্থা এমন হয়েছে, পুঁজিটাও উঠবে না। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগিতা করত, বাঁচতে পারতাম।’
আরেক কৃষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এক-দুইদিনের মধ্যে প্রথম দফা ফল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা। ২-৩ ঘণ্টার টানা বৃষ্টি আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। কী করে দেনা শোধ করব, সে চিন্তায় অস্থির লাগছে। লাভ করা তো দূরের কথা, পুঁজি উঠবে কিনা সে চিন্তায় রয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাইয়ের বেশকিছু ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষকরা এখানে এসে জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ আবাদ করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে তরমুজচাষীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আবাদ হওয়া ৭৫০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় খেতের তরমুজ পুষ্ট হয়েছে, চাষীরা সেসব তরমুজ দ্রুত বিক্রি করলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’